1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
মাওলানা ইমদাদুল্লাহর মৃত্যুতে কয়ছর আহমদ এমপির শোক ও সমবেদনা প্রকাশ শায়খে কাতিয়ার বড় ‘সাহেবজাদা’ মাওলানা ইমদাদুল্লাহ’র ইন্তেকাল এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, নতুন জিপিএ ৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী ইউপি নির্বাচন: দেড় দশক পর বাড়ছে প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন সুনামগঞ্জে বখাটেপনায় আটক ৪ শিক্ষার্থী, মুচলেকায় মুক্ত জগন্নাথপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত টমটম চালকের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমান সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের চারজন নিহত

অনিয়ম ও দূর্নীতির কারণে ২ হাজার কোটি টাকার ফসলহানির অভিযোগ

  • Update Time : সোমবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৭
  • ৫১৫ Time View

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হাওর অঞ্চলে সম্প্রতি বাঁধ ভেঙ্গে কেবল সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে বলে জানানো হয় এবং এই ফসলহানির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। রবিবার সকালে হাওর বিষয়ে কর্মরত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত হাওর এ্যাডভোকেসী প্লাটফরম (হ্যাপ) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। হ্যাপ’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, বাপা’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, জামালগঞ্জ উপজেলার
হালির হাওরের কৃষক মাফিকুল ইসলাম, নেত্রকোনার ডিঙ্গাপোতা হাওরের নারায়ন চন্দ্র দাশ, হ্যাপ’র আনিসুল ইসলাম, মণিষা বিশ্বাস, শেখর চন্দ্র, আসিফ খান, মোসাব্বের হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেমলনে বলা হয়, হাওরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো সঠিক সময়ে এবং টেকসই কায়দায় ফসল রক্ষাবাঁধ তৈরি এবং মেরামত না করা। এ কাজটি না করায় ২০০১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রায় আটবার হাওরের কৃষক তার ফসল ঘরে তুলতে পারেনি। অথচ এই এক ফসলি বোরোধানের উপরে হাওরবাসী নির্ভরশীল। অন্যদিকে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই বোরো ফসল বিরাট ভূমিকা পালন করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আমাদের প্লাটফর্মের পক্ষ থেকে হাওরের বাঁধনির্মাণকালীন সময়েই পর্যবেক্ষণের জন্য গত ১১-১৩মার্চ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছে। তাছাড়া কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজের বিষয়ে নানা মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বাঁধ বিপর্যয়ের পর প্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে-অনেক জেলায় দেরিতে কাজ শুরু হয়েছে। সময়মত কাজ শেষ না হওয়ার ফলে অনেক বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। আমাদের পরিদর্শনকালীন সময়ে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর অর্ধেক কাজ অসম্পূর্ণ দেখতে পেয়েছে। বাঁধ নির্মাণের শেষ সময় ছিল ২৮শে ফেব্রুয়ারী কিন্তু মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেও অনেক বাঁধের নির্মাণ কাজই শুরু হয়নি। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে জেনেছিলাম ১৩ই মার্চ সুনামগঞ্জে প্রায় ১২টি বাঁধের কোন কাজ-ই শুরু হয়নি। পিআইসির তুলনায় ঠিকাদারের মাধ্যমে বাঁধের কাজ করাতে উৎসাহ বেশি এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পিআইসিকে নিয়োগ করা। নি¤œমানের কাজ, কিছু প্রয়োজনীয় জায়গায় বাঁধ নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নেই, আবার অপ্রয়োজনীয় জায়গায় বাঁধের নির্মাণ কাজ লক্ষ্য করা গেছে। পিআইসির মাধ্যমে যারা কাজ করছেন তারা প্রয়োজনীয় তহবিল পাননি। আবার অনেক পিআইসি আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকায় তারা অর্থের যোগান দিতে হিমশিম খেয়েছেন। পিআইসিরা কোথাও কোথাও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে বাঁধের কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবারের বাঁধ বিপর্যয়ের কারণে (কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে) গত ৫ই এপ্রিল ২০১৭ বিকাল ৩টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলার ২,২৩,০৮২ হেক্টর আবাদকৃত জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১,১৩,০০০ হেক্টর, এছাড়া নেত্রকোনার মাত্র একটি বাঁধ এখন পর্যন্ত টিকে আছে বাকি সব বাঁধ ভেসে গেছে। এতে নেত্রকোনার ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৩৮,১১৫ হেক্টর, কিশোরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ২০,০০০ হেক্টর। এই তিন জেলায় পানিতে ডুবে গেছে ১,৭১,১১৫ হেক্টর জমির ধান। এতে ২ কোটি ৫ লক্ষ মণ ধান কৃষকের ঘরে উঠছে না। প্রতি মণ ধানের দাম যদি ১,০০০/- টাকা হয় তাহলে মোট ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৫৩ কোটি টাকা।
অসমাপ্ত এবং দুর্বল বাঁধের কারণে বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকেছে ফলে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এতে কৃষক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেমনি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা কতটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে তা হয়ত এখন আমরা অনুভব করতে পারছি না।
সংবাদ সম্মেলনে হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা, পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত স্বল্প দামে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী চালু, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম হাওরে বিস্তৃত করা, বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুর্নীতি রোধে একটি কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার দাবী জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com