1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭২ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

মানুষ মাত্রই তার মধ্যে দোষ-গুণ থাকবে। আল্লাহর বিশেষ বান্দা ছাড়া কেউ দোষের ঊর্ধ্বে নয়। কারও দোষ অনুসন্ধান ও প্রচার করা ইমানদারের কাজ নয়। আল্লাহও চান, মানুষ কারও দোষ প্রকাশ না করুক। মানুষ দোষ গোপন রাখার গুণে গুণান্বিত হোক। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কোনো মন্দ বিষয় প্রকাশ করা পছন্দ করেন না। তবে কারও প্রতি জুলুম হয়ে থাকলে সে কথা আলাদা। আল্লাহ শ্রবণকারী এবং বিজ্ঞ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৮)

এই আয়াতের ব্যাখ্যায় আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ পছন্দ করেন না যে, আমরা একে অন্যের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করি বা মন্দ বিষয় প্রকাশ করি, যদি না আমাদের ওপর অন্যায় করা হয়। তবে যদি কারও ওপর জুলুম করা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে আল্লাহর অনুমতি রয়েছে। তারপরও ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম। (তাফসিরে ইবনে কাসির)

মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আদমসন্তানের প্রত্যেকই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারী ব্যক্তিরা হলো উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) কারও দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করতেন না। কারণ, দোষত্রুটির প্রকাশ মানুষের ফিরে আসার পথে, তওবার পথে অন্তরায় তৈরি করে। একজন মানুষ যখন ভাবে যে, তওবা করে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, আবার সে সব মানুষের সঙ্গে মিশতে পারবে, পাপের কারণে কেউ তাকে খারাপ ভাববে না, তখন তওবা করা তার জন্য সহজ হয়ে যায়। ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বরে আরোহণ করে উচ্চস্বরে ডেকে বললেন, ‘হে ওই সম্প্রদায়, যারা মুখে ইমান এনেছ কিন্তু হৃদয়ে ইমান প্রবেশ করেনি। শোনো, তোমরা মুমিনদের কষ্ট দিয়ো না, তাদের লজ্জা দিয়ো না, তাদের গোপন দোষ তালাশ করো না। কেননা যে তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ তালাশ করবে, আল্লাহ তার গোপন দোষ ফাঁস করে দেবেন। আর আল্লাহ যার দোষ বের করে দেবেন তাকে তিনি লাঞ্চিত করবেন। এমনকি সে তার ঘরের অভ্যন্তরে অবস্থান করলেও।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২০৩২)

অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে বান্দা দুনিয়াতে অন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন রেখেছেন, কেয়ামত দিবসেও আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫৪৬)

মানুষের স্বভাবটাই এরকম যে, অন্যের দোষ বলে বেড়াতে সে পছন্দ করে। আপনি নিজেকে ওই লোকের স্থানে কল্পনা করে দেখুন, যার দোষ আপনি বলে বেড়াতে চাচ্ছেন। তাহলে এই অভ্যাস-বর্জন আপনার পক্ষে সহজ হবে। তাহলে কেউ কারও দোষ প্রকাশ করতে চাইবে না। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ তো তার ভাইয়ের চোখের মধ্যে থাকা সামান্য ধুলিকণাও দেখতে পায়, কিন্তু তার নিজের চোখে আস্ত একটা গাছের কাণ্ড থাকলেও সে তা দেখতে পায় না।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৭৬১)

আপনার চোখে যখনই কারও দোষ ধরা পড়ে, তখন নিজের কথা কল্পনা করুন। নিজের দোষগুলোর প্রতি খেয়াল করুন। নিজের দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ পেলে আপনার কেমন খারাপ লাগবে, আপনার অবস্থান কোথায় যাবে, তা ভাবুন। তাহলে আশা করা যায়, অন্যের দোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনার হৃদয় কেঁপে উঠবে।

সৌজন্যে এশিয়া পোস্ট

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com