1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে গাছ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু মাওলানা ইমদাদুল্লাহর মৃত্যুতে কয়ছর আহমদ এমপির শোক ও সমবেদনা প্রকাশ শায়খে কাতিয়ার বড় ‘সাহেবজাদা’ মাওলানা ইমদাদুল্লাহ’র ইন্তেকাল এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, নতুন জিপিএ ৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী ইউপি নির্বাচন: দেড় দশক পর বাড়ছে প্রার্থীর জামানত ও ভোটের ব্যয় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী অন্যের দোষ গোপন রাখলে আল্লাহ যে পুরস্কার দেবেন সুনামগঞ্জে বখাটেপনায় আটক ৪ শিক্ষার্থী, মুচলেকায় মুক্ত জগন্নাথপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত টমটম চালকের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ডেপুটি মেয়র এলিজা রহমান

জগন্নাথপুরের ঈদবাজারে ‘কিরণমালা আর মোদি’ পাঞ্জাবীর সমাহার-ক্রমশ বাড়ছে কেনাবেচা

  • Update Time : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০১৫
  • ৫৮৪ Time View

শংকর রায়:: প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় ঈদের বাজার এখনও জমে উঠেনি। তবে ধারনা করা হচ্ছে দুই একদিনের মধ্যে ঈদ বাজার জমে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক এনে দোকান ভরপুর করে রেখেছেন। ঈদেও দিনক্ষন যত ঘনিয়ে আসছে ততই জমজমাট হয়ে উঠেছে ঈদবাজার। ঈদকে লক্ষ্য করেই শিশু কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের মাঝে আনন্দের শেষ নেই। সবাই এখন নতুন জামা কাপড় সহ নানা সাজগুজের কেনাকেটার জন্য ছুটে যাচ্ছেন বড় বড় কাপড়ের দোকান ও কসমেটিক্স ও জুতার দোকান গুলোতে। মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে ক্রমশ বিপণি বিতানগুলো। বিশেষ করে দুপুর ও সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত কাপড়ের দোকানগুলোতে উপস্থিতি দেখা যায়। গত কয়েক বছর ধরে নারী ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ছে।
সরজমিনে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ঈদের তুলনায় এবার এখনও ঈদের বাজার জমে উঠেনি। তবে ঈদকে টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা এবার প্রচুর নিত্য নতুন ডিজাইনের মাল এনে দোকান সাজিয়েছেন। অত্যাধুনিক অভিজাত কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেলেও বেচাকেনা খুব একটা হচ্ছে না। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক খুঁজছেন। বাহারী রঙের পোশাক, মহিলাদের সূতি ও নেট টিসু শাড়ীর প্রতি আকর্ষণ বেশী ক্রেতাদের। মেয়েদের কাপড়ের মধ্যে কিরণ মালা সবচেয়ে বেশি আকর্ষনীয়। গত বছর পাখি সেটের মতো এবার কিরণমালার প্রতি তরুণীদের আর্কষন। মহিলাদের বিশাল ও ঢাকাইয়া জামদানী ও নকশীগাথা শাড়ির বেশী চলছে। জগন্নাথপুর সদর বাজারের বিন্দুজ অভিজাত বিপনী, কেবি ফ্যাশন গ্যালারী ,রূপনগর,বেবি কর্ণার, আসল ঝলক ফ্যাশন ও নিউ ঝলক এন্ড ফ্যাশন সুজ, বন্ধন টাচ, সালমাম ফ্যাশন, স্পোর্টস এন্ড ফ্যাশন, বাজারের ভীতরে উজ্জ্বল গার্মেন্টস, নিলীমা গার্মেন্স,বকুল গার্মেন্স, সিতু স্পোর্টস এন্ড ফ্যাশনে চলছে ঈদের কেনাবেচা।
বিন্দুজ অভিজাত বিপনীর মালিক মিন্টু রঞ্জন ধর বলেন, এখন পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেনি। যে আশা নিয়ে দোকান সাজিয়েছিলাম ক্রেতাদের নিকট থেকে তেমন সাড়া মিলছে না। তিনি বলেন, প্রবাসী আয় কমে যাওয়া ও মন্দাভাবের কারণে ঈদ বাজার আগের মতো জমছে না।
নিউ ঝলক ফ্যাশন সুজের মালিক আব্দুল কদ্দুছ বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই কেনা বেচা বাড়ছে। তবে প্রত্যাশিত কেনাবেচা শুরু হয়নি। আশা করছি দুই-এক দিনের মধ্যে পুরোদমে ঈদবাজার জমবে।
আসল ঝলকের মালিক শ্যামল গোপ বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ঘোষ শপিংমলকে সাজিয়েছি নিত্য নতুন ডিজাইনের মালামাল দিয়ে। বেচাবিক্রি ভালোই চলছে।
সালমান লেডিস ফ্যাশনের মালিক ফয়জুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে কেনাবেচা ততই বাড়ছে।
ঈদের কাপড় কিনতে আসা রানীগঞ্জের রুজিনা বেগম বলেন,গত বছরের তুলনায় এবার দাম খুব বেশী বাড়েনি। তবে পছন্দের পোশাক খুঁজতে সময় লাগছে।
ঈদ উপলক্ষে বাজারে এসেছে বাহারি পোশাক। তবে এর মধ্যে ভারতীয় সিনেমা ও বাংলা সিরিয়ালের বিভিন্ন চরিত্রের নামে আসা পোশাক নিয়ে এবারও চলছে মাতামাতি। এনিয়ে মার্কেটগুলোতে দেশীয় পণ্যের চেয়ে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব। ক্রেতারা বলেছেন, বাজার দখল করে রেখেছে ভারতীয় পণ্যে। দাম হাঁকানো হচ্ছে আকাশ ছোঁয়া। রেডিমেড কাপড়ের বাজারে ভারতীয় সিরিয়ালের নামে পোশাক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে চাহিদার শীর্ষে ‘কিরণমালা’ আর নরেদ্র মোদির পাঞ্জাবি। বিভিন্ন বয়সের নারীরা চোখ বন্ধ করে কিনছেন কিরণমালা আর ছেলেরা কিনছেন মোদি পাঞ্জাবী। কাপড়ের পাশাপাশি জুতা ও কসমেটিকসের দোকানে ভীড় বাড়ছে। নিম্ম আয়ের মানুষগুলো ফুটপাতে কেনাবেচা শুরু করেছেন। বাজারের বিভিন্নস্থানে ভাসমান দোকানগুলোতে চলছে কেনাকাটা। জগন্নাথপুর গ্রামের দিনমজুর জিলিক মিয়া জানান, গতবারের চেয়ে এবার কাপড়ের দাম বেশী। তাই স্ত্রী ছেলে মেয়ের জন্য একটা করে কাপড় কিনা শুরু করেছি। এদিকে ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে আসা শুরু করেছে। যারা আসতে পারছেনা প্রবাস থেকে ঈদের খরচ হিসেবে পাটাচ্ছেন ডলার পাউন্ড। ব্যাংক গুলোতে রেমিটেন্সের ভীড় বাড়ছে। বিশেষ করে সোনালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, এশিয়া ব্যাংক,এনসিসি ব্যাংক রয়েছে অগ্রভাগে।
সিটি ব্যাংকের জগন্নাথপুর শাখা ম্যানেজার মোহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী রেমিটেন্স আসা শুরু করেছে। আমরা রেমিটেন্সের টাকা দিতে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছি।
উত্তরা ব্যাংকের ম্যানেজার নজির হোসাঈন বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে প্রবাসী রেমিটেন্সে ততই বাড়ছে। ঈদের শেষ মুর্হুত পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ঈদকে সামনে রেখে উপজেলা সদর বাজার ও ব্যাংকগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com