1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের দাবি স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ/ বাসায় ডেকে আনা ব্যক্তিই কেড়ে নেন তিন প্রাণ: পিবিআই দিরাইয়ে জলমহাল থেকে দেড় কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ বিদ্যুৎ সংকট কমবে কবে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে জগন্নাথপুরে র‍্যালি ও আলোচনাসভা ​ জ্বালানি সংকট উত্তরণে সংসদে বিরোধী দলের ৪ প্রস্তাব, সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বাড়িতে মিললো যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ সত্য প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব ১০ বার ডেকেও আসেননি নার্স! জগন্নাথপুর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

সেনবাবুর জন্য কাঁদছে সুনামগঞ্জে ভাটির জনপথ

  • Update Time : রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭
  • ৩১০ Time View

সামছুল ইসলাম সর্দার দিরাই থেকে:: সকাল থেকে পিনপতন নীরবতা ভাটির জনপথ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের দিরাই শহরে। কাকডাকা ভোর থেকে শান্ত এই শহরের বুকে গড়ে উঠা সুরঞ্জিত সেনের জন্মভিটায় লোকজনের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। লোকজনের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে শান্ত শহর দিরাই । নীরবে কাঁদছেন হাজারো দলের নেতাকর্মীরা। দিরাই উপজেলার চন্ডিপুল গ্রামের মহিতোষ চন্দ্র দাস কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার বাবা মারা যাওয়ার পরও যেমন কষ্ট হয়েছিল, আজ আমাদের প্রিয় নেতা ভাটি বাংলার অহংকার সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুতে এরকম কষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন,সুরঞ্জিত সেন আমাদের গর্ব ও অহংকার ছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দিরাই-শাল্লা ও সুনামগঞ্জবাসীকে গৌরবান্ধিত করেছেন। দিরাই পৌর শহরের বাসিন্দা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি উজ্জ্বল আহমদ চৌধুরী বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক ও রাজনৈতিক গুরু, আমার বাবার মতো ছিলেন। সারা রাত ঘুমাতে পারি নাই।
কান্না জড়িত কন্ঠে দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায় বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত। তাঁরমৃত্যুতে শুধু দিরাই নয় গোটা বাংলাদেশের মানুষ একজন বিচক্ষন রাজনীতিবীদকে হারালো।

পৌর শহরের থানা রোডে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তর দোতলা বাড়িটি বাংলো টাইপের। ঘরের সামনে জাতীয় পতাকার পাশে কালো পতাকা উড়ছে। নিচতলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সব অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়। এখানে নেতা-কর্মীদের ভিড়। দোতলায় দুটি কক্ষ। দিরাইয়ে এলে তারই একটি কক্ষে থাকতেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এই বাড়ির দরজা সব সময় খোলা থাকত নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য।


দিরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি এড সুহেল আহমদ বলেন দিরাই শাল্লার মানুষ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছেন। তাঁরমৃত্যুতে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তারা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মরদেহ কাল দিরাই আসবেন এবিষয়ে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করছেন।
আলী আমজাদ (৭০) নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘১৯৬৯ সাল থেকে সেনবাবুর সঙ্গে আছি। কর্মীদের সন্তানের মতো ভালোবাসতেন তিনি। সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে পাশে থাকতেন। এ রকম নেতা আর হবে না।’
আবদুল মতলিব (৫৫) বলেন, ‘রাজনীতি করলেই মানুষের নেতা অওয়া যায় না। সেনবাবু আছলা সাধারণ মানুষের নেতা। তাইনের শরীরে মাটির গন্ধ আছিল। এর লাগি তাইন মানুষরে অত ভালোবাসতা। মানুষও তাইনরে ভালা পাইত।’
দোতলার বারান্দায় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বেতের তৈরি যে চেয়ারটি বসতেন, সেটি পরিষ্কার করছিলেন সুবল পাল (৪৫)। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সম্পর্কে বলতে চাইলে তিনি কান্না শুরু করেন। কোনো কথা বলতে পারেননি। পাশে থাকা এক ব্যক্তি জানান, সুবল পাল ২০ বছর ধরে এখানে আছেন। তাঁর সংসার-সন্তান নেই, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তই সব ছিলেন। সকালে খবর জানার পর থেকেই তিনি কাঁদছেন। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না।
দিরাইয়ে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সবাই কালো ব্যাজ পরেছেন। সবাই তাঁর বাসভবনে ছুটে আসছেন শেষবারের মতো প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার জন্য। সুনামগঞ্জ শহরে কাল তার মরদেহ আসবেন প্রশাসন শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com