Site icon জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর

কোরআনের হাফেজ হতে পারলেও মুফতি হওয়ার স্বপ্ন ঝরে গেল সড়কে

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন বাবা রফিকুল ইসলাম। সেই স্বপ্ন পূরণও হয়েছিল সিলেটের শাহপরান মাদ্রাসায় হাফেজি শেষ করেছিলেন তার বড় ছেলে আরমান হোসেন রাহিম। এরপর মাওলানা-মুফতি বানানোর নিয়তে ঢাকার নারায়ণবাগ মাদ্রাসায় ভর্তি করান তাকে, যেখানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছিলেন এই কিশোর। কিন্তু ওসমানীনগরের সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল বাবার বহুদিনের সেই স্বপ্নযাত্রা।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সিলেটে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। দুই ছেলেই তার হাফেজি লাইনে পড়াশোনা করছিল বড় ছেলে আরমান হাফেজি সম্পন্ন করে ঢাকায় উচ্চতর শিক্ষার পথে এগোচ্ছিলেন, ছোট ছেলেও একই ধারায় পড়াশোনা করছে। শুক্রবার সকালে মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথেই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন আরমান, যা কেড়ে নেয় তার প্রাণ।

ছেলে হারানোর খবর পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন রফিকুল ইসলাম। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে বলতাম, তোর জন্ম শুক্রবারে, মৃত্যু হলেও যেন শুক্রবারেই হয়। আরও বলতাম, বাবা, শুক্রবারে বেশি বেশি নবীজির ওপর দরুদ পড়বি। আমি আমার ছেলেকে হাফেজ, মাওলানা ও মুফতি বানাতে চেয়েছিলাম। ঢাকায় পড়াশোনা করাচ্ছিলাম। আল্লাহর কাছে এমনই নিয়ত করেছিলাম।

সন্তান হারানোর শোকে বারবার ভেঙে পড়েন এই বাবা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আল্লাহ নিয়ে গেছেন, আল্লাহ নিয়ে গেছেন। আমার ছেলে কোরআন তেলাওয়াত করত, আল্লাহ আল্লাহ করত। ইনশাআল্লাহ, আমার ছেলে নবীর দরবারের পথে রওনা হয়েছে। ছেলে আর নেই, ছেলে আর নেই। দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। আল্লাহ নিয়ে গেছেন।

উল্লেখ্য,শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়, পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯ জনে। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ১৪ জন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য সপ্তম রায় প্রীতম, গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে থাকা শিশু জাইফা এবং মাদ্রাসাগামী হাফেজ আরমান হোসেন রাহিমসহ আরও কয়েকজন। সূত্র-সিলেটবয়েস.কম

Exit mobile version