জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৯ জন এবং বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাসচাপায় ৭ শ্রমিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে এ দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী।
ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নাল আবেদিন জানান, সকালের দিকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহণের একটি বাস এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহণের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহণের সাতযাত্রী প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ৩ বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহণের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়ার সিল্কিবান্ধা এলাকায় বাসচাপায় সাত দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন অন্তত ১৫ জন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান এ তথ্য দিয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ইসলাম, নূর আলম ও বগুড়া সদরের ফাঁপোড় এলাকার বেলাল হোসেন এবং জয়পুরহাটের তাজমুল।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহণের একটি বাস শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদরের এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় পৌঁছে। গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বগুড়া-নওগাঁ সড়কের পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত করে। সেখানে কাজের সন্ধানে আসা দিনমজুররা অপেক্ষা করছিলেন। বাসটি শ্রমিকদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন।
এছাড়া অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসাধীন আরও চারজন মারা যান।
সূত্র : যুগান্তর.কম

