স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুরে চাচাতো ভাইদের বর্বরোচিত হামলায় নিহত নাজিম উদ্দিন (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিহতের ছোট ভাই বোরহান উদ্দিন বাদি হয়ে মৃত মাসুক মিয়ার ছেলে মাছুম আহমদ (৩৮) কে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এই হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৫-৬ জন অজ্ঞাত আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, মৃত মাসুক মিয়ার স্ত্রী ফারহানা বেগম (৫৫), মৃত মাসুক মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (৩৫), মঞ্জু মিয়া (৩৩) মুবিন মিয়া (২৮), মুনিম মিয়া (২৮), মাছুম মিয়ার ছেলে হোসাইন মিয়া (২০), মাছুম মিয়ার স্ত্রী শ্যামা বেগম (৩২) ও মৃত মাসুক মিয়ার মেয়ে লিজা বেগম (২৫)।
মামলার বাদি নিহত নাজিম উদ্দিন ছোট ভাই বুরহান উদ্দিন বলেন, ঘাতকরা নির্মমভাবে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। এঘটনায় আমি বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছি। খুনিরা অত্যন্ত সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলা রতদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিহত নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের ওলিমার দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার সাথে নাজিমের মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাসুমের নেতৃত্বে ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নাজিমের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় প্রতিপক্ষের ‘ছুলফি’র আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন নাজিম উদ্দিন।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে মূলত জমি-জমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল। বিয়ের দাওয়াতকে কেবল একটি উসিলা হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা এই নির্মম ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।