যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষক, বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত, শিক্ষাবিদ, প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ জহুরুল হক (ডিপিএসআই) যুক্তরাজ্যের কেন্টারবারী ইউনিভার্সিটি থেকে আবারো এই ষাটোর্ধ্ব বয়সে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করায় লন্ডনের দর্পণ বুক ক্লাবের আয়োজনে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পূর্ব লন্ডনে দর্পণ বুক ক্লাবের কার্যালয়ে বুক ক্লাবের সভাপতি,
প্রবীন সাংবাদিক, কবি রহমত আলীর সভাপতিত্বে এ প্রীতি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি প্রানবন্ত সঞ্চালনা করেন- সাবেক অধ্যক্ষ, লেখক-সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান।
এ সম্মাননা প্রীতি সভায় শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন- শিক্ষক আফজল হোসেন সিদ্দিক ।
কবি, সাংবাদিক রহমত আলীর স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হকের জীবনীপাঠ করেন- যুক্তরাজ্যে সফররত সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রফেসর মোয়াজ্জম হোসেন।
এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন- ব্রিকলেন ট্রাস্টের চেয়ার ও দর্পণ বুক ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ মুনিম, প্রবীন কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ও সাবেক কাউন্সিলর উসমান গনি, লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, গবেষক ডক্টর আনসার আহমদ উল্লাহ, অধ্যাপক সাজিদুর রহমান, প্রিন্সিপাল সানোয়ার আলী কয়েছ।
অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন- ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি ইমদাদুন খানম, এসিসটেন্ট সেক্রেটারি ও চ্যানেল এনআরবি ইউকের সম্পাদক এ রহমান অলি, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট নাজমুল হুদা, আবুল বাশার, নাহিদ জায়গীরদার, বিবিএন সম্পাদক কবি সাজ্জাদ হোসেন, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ফারুক আহমদ, নুরুল হক ও ফজলু আহমদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হককে উত্তরীয় পরিয়ে দেন অতিথি শাহ মুনিম ও আহবাব হোসেন । সার্টিফিকেট তুলে দেন কবি রহমত আলী ও কবি ইমদাদুন খানম। ক্রেস্ট তুলে দেন ডক্টর আনসার আহমেদ উল্লাহ ও নাজমুল হুদা ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হককে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন- আবারো এই ষাটোর্ধ্ব বয়সে গ্রাজুয়েশন যুক্তরাজ্যে সম্পন্ন করা অবশ্য ধৈর্য্য এ অধ্যাবসায় ছাডা সম্ভব নয়। আর ইচ্ছে থাকলে যে সম্ভব তা তিনি করে দেখালেন। শিক্ষার কোন বয়স নেই, শেষ নেই, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হক বিলেতে প্রেরণা ও উদাহরণ হয়ে থাকবেন।
বক্তারা আরো বলেন- এই বিলেতে বাংলা ভাষা ও শিল্প, সংস্কৃতির সুরক্ষায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সচেতন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা পূর্বের মতো আবারো ঘুরে দাঁড়াতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে।
না হয় প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা একদিন হারিয়ে যাবে। আর গুণীজনদের কদর এরকম সবসময়ই করতে হবে।
সংবর্ধনার জবাবে আলোকিত মানুষ শিক্ষক সৈয়দ জহুরুল হক – আয়োজকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তাঁর এই প্রাপ্ত সম্মানকে নিজের পরিবার ও প্রবাসী কমিউনিটির মানুষদের উৎসর্গ করেন। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

