স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে একটি তালাবদ্ধ বসতঘর থেকে চার দিন পর আছিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জগন্নাথপুর পৌরসভার ইনাতনগর এলাকা থেকে ওই বৃদ্ধার মরদহে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আছিয়া বেগম ইনাতনগরের মৃত খালিক মিয়ার স্ত্রী।
এদিকে ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকা এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর পর চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওযার পর থেকে ওই বৃদ্ধা আছিয়া বেগম বাড়িতে একা থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার চিকিৎসার জন্য জেলা শহর সুনামগঞ্জে যান আছিয়া বেগম। এরপর থেকে ওই বৃদ্ধার সাথে স্বজনদের কারো যোগাযোগ হয়নি৷ সোমবার রাতে স্থানীয়রা ওই তালাবদ্ধ ঘরটির পাশ দিয়ে যাতায়াতের সময় পঁচা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়৷ পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের উপর কম্বল গায়ে অর্ধ-গলিত অবস্থায ওই বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওই বৃদ্ধা আছিয়া বেগমের মেয়ে কল্পনা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে মায়ের সাথে আর কোন যোগাযোগ হয়নি। একাধিক বার মোবাইলে ফোন করেও উনাকে পাইনি। তিনি বাড়িতে একাই থাকতে।
কল্পনার স্বামী দিলশাদ মিয়া বলেন, আমার শ্বাশুড়ির সাথে কারো কোন শত্রুতাও ছিলনা। তবে উনার কাছে চিকিৎসার জন্য নগদ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিল। আমাদের ধারণা ওই টাকার জন্য উনাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘরটি বাহির থেকে তালা দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই মহিলার দেহের বেশকিছু অংশ পঁচে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য আজসকালে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।