অনলাইন ডেস্ক –
কিশোরগঞ্জের এক নারী ময়মনসিংহ শহরের আত্মীয়ের বাসা থেকে বেড়িয়ে নিখোঁজের ৫ দিন পরও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। নন্দিতা বিশ্বাস (৩৬) নামের ওই নারীর স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচরে। বাবার বাড়ি নেত্রকোনা শহরের নাগড়া শিববাড়ী এলাকায়।
ওই নারীকে হন্যে হয়ে খোঁজার পাশাপাশি নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাঁর বড় ভাই স্কুলশিক্ষক প্রণব বিশ্বাস। নন্দিতা বিশ্বাসের স্বামী সুমন দাশ কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত। তাঁদের সংসারে ৬ ও ৪ বছয় বয়সী দুটি ছেলে রয়েছে।
প্রণব বিশ্বাস বলেন, ১০ জানুয়ারি সকালে তাঁর বোন নন্দিতা কিশোরগঞ্জ থেকে বাবার বাড়ি বেড়াতে আসেন। ওই দিন বিকেলে ময়মনসিংহ শহরে ভাইয়ের ভায়রা সুজিত সরকারের বাসায় যান। সেখানে ওই দিন থেকে পরদিন ১১ জানুয়ারি সাড়ে রাত ৯টায় ঢাকার মালিবাগে বোনের বাসার উদ্দেশে ময়মনসিংহ সেতু থেকে ‘শ্রমিক’ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। সুজিতই ওই বাসে নন্দিতাকে তুলে দেন। ওই দিন রাত পৌনে একটার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। সঙ্গে থাকা মুঠোফোনটিও এখন বন্ধ রয়েছে।
তাঁর সন্ধান পেলে নেত্রকোনা মডেল থানা অথবা ০১৭২৩৬৫৬৫১৭ বা ০১৭১০১৯৮৫০৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান পরিবারের সদস্যরা।
নন্দিতার বোন সুনামগঞ্জে কর্মরত মৎস্য কর্মকর্তা সীমা রানী বিশ্বাস ও স্বামী সুমন দাশ জানান, নন্দিতা স্নাতকোত্তর পাস করলেও ইদানীং কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁর গায়ের রং ফরসা, হালকা গড়ন। নিখোঁজ হওয়ার সময় তাঁর পরনে হালকা নীল রঙের সালোয়ার, গায়ে অফ হোয়াইট রঙের চাদর এবং হাতে ছাই রঙের একটি ব্যাগ ছিল।
এদিকে সুজিত সরকার শ্রমিক পরিবহনের বাসটির চালক মো. সাকিলের সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, বিশ্ব ইজতেমায় আসা গাড়ি আর মুসল্লিদের ভিড়ের কারণে ওই দিন বাসটি গাজীপুরের পরে আর এগোতে পারেনি। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে একটায় গাজীপুর চৌরাস্তায় সব যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হয়। সুপারভাইজার নন্দিতাকে ঢাকাগামী লোকাল বাসে ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর আর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তাঁর সন্ধান পেলে নেত্রকোনা মডেল থানা অথবা ০১৭২৩৬৫৬৫১৭ বা ০১৭১০১৯৮৫০৭ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানান পরিবারের সদস্যরা।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহম্মেদ প্রথম আলোকে বলেন, ওই গৃহবধূ নিখোঁজের ব্যাপারে দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
সূত্র প্রথম আলো