বিশেষ প্রতিনিধি::
ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে বাড়ি ফিরছেন নিশি দেবনাথসহ ৯ জন ব্যক্তি। হঠাৎ হাওরে হালকা বাতাস এলো। এ সময় মুহুর্তের মধ্যেই নৌকা পানিতে ভরে গেল। কিছু বুঝার আগেই নৌকাটি ডুবে যায়। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন সাঁতার কেটে পারে উঠতে পারলেও ৪ জন উঠতে পারলেন না।
শনিবার দুপুরে এসব কথা বলছিলেন জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ভবানীপুরের নিশি দেবনাথ (৪৮)। মৃত্যুর ভয়ে আর আতঙ্ক কথা বলার সময় শিহরিত হয়ে উঠেন তিনি।
শুক্রবার রাত ৩টার দিকে স্থানীয় মইয়ার হাওরের বৈঠাখালী এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া নিশি দেবনাথ আরও জানালেন, রাত ১০টার দিকে গ্রামের পাশের মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান কীর্তন গিয়েছেন তাঁরা। রাত ৩ টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। বৈঠাখালী এলাকায় পৌছাঁমাত্র হঠাৎ করে নৌকায় পানি ভরে উঠল। তখন হালকা বাতাস বইছিল। মুহুর্তের ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়ে নৌকাটি ডুবে গেল। জীবন বাঁচাতে যে যেদিকে পারি সাতাঁর কেটে তীরে উঠার চেষ্ঠা করি। ভাগ্যক্রমে ৫ জন বেঁচে গেলেও আমাদের ৪ জন নিখোঁজ হন। দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও অপর দুইজনের কোন সন্ধান মিলেনি।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভবানীপুর এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি গিয়েছিলেন। ফেরার পথে নৌকাডুবে যায়। এসময় ৫ জন সাতাঁর কেটে পারে উঠতে সক্ষম হলেও নৌকা থাকা ভবানীপুরের মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫) ও তাঁর ভাই অরুণ দেবনাথ, (৪৫) একই এলাকার মৃত জোগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ (৩৫) এবং মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সতীন্দ্র (৬৫) নিখোঁজ হন। শনিবার সকাল থেকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্ধার অভিযান চালায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মইয়ার হাওরের শ্মশাটঘাট এলাকার নিকটবর্তী স্থান থেকে অরুণ দেবনাথে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকালে চিলাউড়া এলাকা থেকে সতীন্দ্র দেবনাথের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে আজ রোববার নিখোঁজ অপর দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।