জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধারাম হাওরে দুই ভাইয়ের সঙ্গে মাছ ধরতে গিয়েছিল শরিফ হোসেন নামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। প্রবল স্রোতে হাওরের পানিতে সে তলিয়ে যায়। সাড়ে তিন ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় এক ডুবুরি।
আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের পেছনে হাওরে এ ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। মৃত শরিফ ওই গ্রামের কৃষক ফরিদ মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণিতে পড়ত।
ধর্মপাশা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমাম হোসেন সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। নিখোঁজ শিশুটিকে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি।’
পুলিশ, শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহিদ হোসেন (৭) ও আরিফ হোসেন (৮) নামের বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে ছটা জাল নিয়ে হাওরে মাছ ধরতে যায় শরিফ। অন্য দুই ভাই সাঁতার জানলেও শরিফ সাঁতার জানত না। তিনজনের মধ্যে আরিফ ও মাহিদ জাল দিয়ে মাছ ধরছিল এবং মাছ রাখার পাত্র নিয়ে তাদের পেছনে পেছনে যাচ্ছিল শরিফ। একপর্যায়ে স্রোতের টানে হাওরের পানিতে তলিয়ে যায় শরিফ। এ সময় মাহিদ একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি আঁকড়ে ধরে থাকে এবং আরিফ বাড়িতে ফিরে ছোট ভাইয়ের তলিয়ে যাওয়ার খবর দেয়।
শরিফের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পরিবার ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটির চাচা কৃষক আজিমুল হক (৩১) বলেন, ‘আমরা লোকজন নিয়ে বেলা সাড়ে তিনটা থেকে হাওরে জাল ফেলে ও পানিতে ডুব দিয়ে শরীফকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। পরে সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে স্থানীয় এক ডুবুরি তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।’
শরিফের বাবা ফরিদ মিয়া (৫৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটবো জানলে আমার ছেলেরারে কহনো মাছ মারার লাইগা আওর যাইতাম দিতাম না।’
সূত্র-প্রথম আলো