জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
বড় ভাই মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে আসতে বলেছিলেন। কিন্তু তার কথা না শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পথেই প্রাণ গেল ছোট ভাই মোহাম্মদ ফাহিম মিয়ার (১৭)। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাহিম ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর গাইনহাটি এলাকার স্বপন মিয়ার ছেলে। সে গাজীপুর শাহীন কলেজের ভৈরব শাখায় নবম শ্রেণিতে পড়ত। চার ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। তাদের আরও এক বোন রয়েছে।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার এসআই রোকনুজ্জামান জানান, রাতে আশুগঞ্জ যাওয়ার পথে ফাহিমের মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত গাড়ি চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ফাহিম গুরুতর আহত হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মোটরসাইকেলটি অতিরিক্ত গতিতে চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফাহিমের বড় ভাই আল-আমিন মিয়া বলেন, তাদের চকবাজারে একটি দোকান রয়েছে। বাবা ও চার ভাই মিলে দোকানটি পরিচালনা করেন। রোববার বাজার বন্ধ থাকায় সেদিন কর্মচারীরাও দোকানে আসেননি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফাহিম বাড়িতে এসে গোসল করে। পরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে মোটরসাইকেল চায়।
আল-আমিন বলেন, মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘুরতে যেতে নিষেধ করেছিলেন আরেক বড় ভাই মনির। তাকে মোটরসাইকেলটি গ্যারেজে রেখে আসতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু চাবি হাতে পেয়ে ফাহিম মোটরসাইকেল নিয়ে ভৈরব মেঘনা সেতুর দিকে চলে যায়। পরে আশুগঞ্জ প্রান্তে দুর্ঘটনার খবর পান তারা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফাহিম যে মোটরসাইকেল নিয়ে সেতু এলাকায় চলে যাবে, তা তারা বুঝতে পারেননি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে চিকিৎসকের কাছ থেকে ফাহিমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন। সূত্র-সমকাল