1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে নৌকাডুবি: স্বামীহারা, দিশেহারা সম্পা সত্য প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব সুনামগঞ্জের হাওরে মাছ ধরতে গিয়েছিল তিন ভাই, স্রোতে ভেসে একজনের মৃত্যু স্থানীয় নির্বাচনে ত্যাগী-পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করবে বিএনপি জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় ২জনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ-২, স্বজনেদের কান্না থাকছে না হবিগঞ্জে ‘হোমিওপ্যাথিক তরল পান’ করার পর স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচজনের মৃত্যু জগন্নাথপুরে হাওরে নৌকাডুবি, ৪ জন নিখোঁজ সুদিন ও দুর্দিনে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে জগন্নাথপুর প্রেসক্লাবের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে হাজারো অভিবাসীর প্রবেশ, নিহত ৯

কাঁটাতারের বেড়া বাধা হতে পারেনি দুই বাংলার মিলনমেলায়

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৫
  • ৭০২ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডেস্ক::কাঁটাতারের বেড়া বাধা হতে পারেনি দুই বাংলার মিলনমেলায়। ভৌগোলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দি দুই বাংলার মানুষের কাছে আজকের দিনটি আসলেই অন্য আর দশটি দিনের চেয়ে আলাদা। বছরের বিশেষ যে কয়েকটি দিনে তারা একে অপরের সাক্ষাৎ পান পহেলা বৈশাখ তার একটি।
ভারত-বাংলাদেশের বাঙালি যে আত্মার একই সুতোয় বাধা তা আবারও প্রমাণ হল মঙ্গলবার। রক্তের সম্পর্ক ছাড়াও আত্মার আত্মীয়কে এক নজর দেখার সুযোগ পেয়েই মিশে গেলেন একে অন্যের সঙ্গে। যাদিও উভয়ের মধ্যে তখনও কাঁটাতার নামক এক বিষবৃক্ষ দাঁড়িয়ে ছিল বাধাহয়ে।
কিন্তু আত্মার টান যেখানে গভীর সেখানে কাঁটাতারের বেড়া কোনো বাধাই হতে পারে না তাদের কাছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের অমরখানা সীমান্তে জড়ো হন দুই বাংলার লাখো মানুষ। বেড়ার দুই বসবাস আর দুই দেশের নাগরিক হলেও জাতিতে তারা এক; সবার পরিচয়ই বাঙালি। মঙ্গলবার সকালে অমরখানা সীমান্তের সাত কিলোমিটার এলাকার পুরোটা জুড়েই বসেছিল বাঙালির এই মিলন মেলা। দীর্ঘদিন পর আত্মীয় ও কাছের মানুষদের দেখতে পেয়ে অনেকেই ভূলে যান যে তারা দুই দেশের নাগরিক। কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক গলিয়ে একে অন্যের হাত ধরেন, কথা বলেন। অনেকেই এসময় উপহার বিনিময় করেন। আবেগ সংবরণ করতে না পেরে কেউ কেউ আবার কেঁদেও ফেলেন। মাত্র তিন ঘণ্টা স্থায়ী এ মিলন মেলা যেন বাংলা ও বাঙালিরই জয়গান গেয়ে শুনাল।

মঙ্গলবার সকাল হতে না হতেই অমরখানা সীমান্তের উভয় পাশে জড়ো হতে থাকেন হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর। সীমান্তের ৭৪৪ নম্বর পিলার ঘেঁষে সাত কিলোমিটার এলাকায় তখন সম্পূর্ণ অন্যরকম এক পরিবেশ তৈরি হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় বিএসএফের অনুমতি পেতেই যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন তারা। প্রতি বছরের মত এবারও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) দুই বাংলার মানুষকে এক হওয়ার এ সুযোগ দেয়।

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে আসা দুই বাংলার এসব মানুষের অধিকাংশই নিম্নবিত্ত পরিবারের। ভিসা কিংবা পাসপোর্ট জোগাড় করার সামর্থ যাদের নেই তারাই তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করেন বছরের এই বিশেষ দিনগুলোর জন্য।

আজ বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, নীলফামারি ও দিনাজপুর থেকে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ছুটে আসেন আপনজনকে একটিবার দেখার জন্য; কাছে থেকে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য। সীমান্তের ওপারে জড়ো হন পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিংসহ কোচবিহারের বাঙালিরা। তবে সময় কম থাকায় অনেকেই আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

পঞ্চগড় পৌরসভা ইসলাম বাগ এলাকার ইসমাইল হোসেন বলেন,’ভারতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় আমাদের পূর্ব পুরুষরা বাংলাদেশে চলে আসেন। এখনও ভারতে আমাদের অনেক আত্মীয় রয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিবছর নববর্ষেই সাথে দেখা করি আমরা।’

দিনাজপুরের সূইহাড়ি থেকে এসেছেন হরিপদ রায়। সারা বছর বিশেষ এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন জানিয়ে হরিপদ বলেন, ‘ভারতের জলপাইগুড়ি এলাকায় আমাদের অনেক আত্মীয় রয়েছেন। টাকা খরচ করে পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে ভারত যাওয়ার সামর্থ নেই আমাদের। উভয় দেশের সদ্চ্ছিার কারণেই আমরা আত্মীয়-স্বজনকে দেখার সুযোগ পাই।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com