1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

আটবার সুনামগঞ্জ এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু

  • Update Time : সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২
  • ৩৭৭ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি ও বিশ্বজিত রায়
স্বাধীনতার আগে-পরে আটবার সুনামগঞ্জে এসেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭০ এর নির্বাচনী প্রচারণায় হাওরে লঞ্চে দুই দিন রাত্রীযাপনও করেছেন তিনি। কিন্তু জেলার কোথাও বঙ্গবন্ধুর সফরের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়নি।
জেলার ধর্মপাশার সুখাইড় রাজাপুর (দক্ষিণ) ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী’র পারিবারিক উদ্যোগে ধারাম ও কাটাখালি হাওরপাড়ের রাজাপুরে (বঙ্গবন্ধু যেখানে বসে ঘরোয়া বৈঠক করেছিলেন) একটি ছোট্ট স্মৃতি জাদুঘর ছাড়া সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে কোথাও কিছু হয় নি।
১৯৫৬ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত আটবার জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুনামগঞ্জে এসেছিলেন। ১৯৭০ এর নির্বাচনী প্রচারণায় হাওরের তলানির উপজেলা দিরাই ও ধর্শপাশার গোলকপুরে লঞ্চেই বঙ্গবন্ধু রাত্রী যাপন করেছেন। এসব এলাকার মানুষ এখনো বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করে চোখের পানি মুছেন।
জামালগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক প্রয়াত ঋষিকেশ রায়ের লেখা ডায়রি থেকে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ করেছিলেন তিনি। জামালগঞ্জের সাচনা বাজার ভাটি এলাকা হওয়ায় জনসভার (১৯৭০এর নির্বাচনী জনসভা) জায়গা ছিল কম। ডাঙায় মানুষের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় দশ হাজারেরও বেশি মানুষ নৌকায় জমায়েত হয়েছিল।
ডায়রি থেকে আরও জানা যায়, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয় ছিল বঙ্গবন্ধুর পুত পবিত্র বক্ষের সাথে তার বক্ষের মিলন। বঙ্গবন্ধুর উষ্ণ বক্ষের তেজ তিনি অনুভব করেছেন। আলিঙ্গনকৃত অবস্থায় বঙ্গবন্ধু তাঁকে বলেছিলেন, ‘ভাই আমার বাংলা মায়ের জন্য যথাসাধ্য করবেন।’ উত্তের ঋষিকেশ রায় বলেছিলেন, ‘জনাব আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আমার ক্ষমতাই বা কতটুকু।’
সংখ্যালঘু শব্দটা শোনে বজ্রের মতো ফেটে পড়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘কি বললেন, সংখ্যালঘু কথা কি বললেন, আমি আপনাকে সাবধান করে দিচ্ছি, আর কোনদিন সংখ্যালঘু কথাটা মুখে আনবেন না। আপনি আমার চেয়ে খাট নন। নিজের শক্তিকে জাগ্রত করুন।’ এভাবে বঙ্গবন্ধু সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
ঋষিকেশ রায়ের ছেলে স্বপন রায় বললেন, ‘আমি তখন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের ছাত্র, সুনামগঞ্জ শহরের স্টেডিয়ামের সমাবেশে এবং সাচনাবাজারের সমাবেশে আমি ছিলাম। বাবা এবং বঙ্গবন্ধুর কথোপকথন আমার এখনো মনে আছে, এই স্মৃতি মনে হলে চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। সাচনাবাজারের বটতলা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবহন করছে। কিন্তু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয় নি।
স্বপন রায় বললেন, সাচনা বাজারের অখ্যাত বটতলার সাথে ঐতিহাসিক শব্দটি তখনই যুক্ত হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সাথে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ ও তোফায়েল আহমদসহ আরও অনেকে ছিলেন।
সাচনা বাজারের সমাবেশে শ্রোতা হিসাবে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঐতিহাসিক ওই সভা মঞ্চে মরহুম আব্দুর রহমান তালুকদার, জমির উদ্দিন মাস্টার, মো. সাদেক আলী, প্রয়াত ঋষিকেশ রায়, সুখময় দে, নির্মলেন্দু ঘোষ চৌধুরী ছিলেন। মঞ্চে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের প্রয়াত বাউলশিল্পী মন্নান মিয়া বঙ্গবন্ধুর সম্মুখে বেহেলা বাজিয়ে গান গেয়েছিলেন- ‘জাগো জাগো বীর বাঙালি মুজিব বাতায়া…।’ এছাড়া নিপীড়ক পশ্চিমা পাকিস্তানীদের উদ্দেশ্যে সভাস্থলে উপস্থিত জনতা স্লোগান তুলে বলেছিলেন, ‘ও ভাই জারমুনি, ছয় দফার বাতাসে তুই টিকবেনি’; ‘উক্কা আছে কল্কি নাই, আইয়ুব খানের ভোট নাই’ ইত্যাদি ব্যাঙ্গাত্বক কথার পাশাপাশি বাঙালি উদ্বুদ্ধ কথা ও গান উচ্চারিত হয়েছিল।
এসব কথার স্মৃতিচারণ করে সাচনাবাজারের বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম কলমদর বললেন, বটতলায় আগে ছিল মাঠ, এখন সেখানে বড় বাজার হয়ে গেছে। এই বট গাছ বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জানান দেয়। গাছটির ১০০ ফুট দূরে চার সড়কের মোড় হয়েছে, এই মোড়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি ভাস্কর্য হতে পারে। ‘বঙ্গবন্ধু চত্ত্বর’ নামে এর নামকরণ হতে পারে।
বঙ্গবন্ধুর সভাস্থলে থাকা ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু তালুকদার সমাবেশের স্মৃতিচারণ করে বললেন, পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিমা গোষ্ঠীর বৈষম্যের কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘দেখেন এই অঞ্চলের ছাতক একটা পেপার মিল আছে, আসলে এইডা পেপার মিল না, এইডা ম-ের মিল। আমাদের কাঁচামাল দিয়ে এখানে ম- তৈরি করে, সেই ম-টা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়া তারা কাগজ তৈরি করে। সেই কাগজ তারা কিনে ছয় আনা দিস্তা, আর আমরা কিনি দশ আনা দিস্তা। এইভাবে পশ্চিমারা যেভাবে পারে সেভাবেই আমাদেরকে নির্যাতন ও বঞ্চিত করছে। দেখেন পাকিস্তানে আমরা বাঙালিই বেশি, কিন্তু লেখাপড়া, চাকরিসহ কোন কিছুতেই আমাদের অধিকার নাই।’ এসব কথা বলে বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তানীদের প্রতি সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন সেদিন।
বঙ্গবন্ধু’র সিলেট অঞ্চলের সফর, সমাবেশ ও বক্তব্য নিয়ে গবেষণা করছেন আইনজীবী কল্লোল তালুকদার। তিনি বললেন, ১৯৫৬ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সুনামগঞ্জে পাঁচ বার এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি শহরের ডিএস রোডের পুরাতন সার্কিট হাউসেও এসেছিলেন। ওখানে তার স্মৃতি সংরক্ষণ করার দাবি করেছি আমরা, কিন্তু এখনো কিছু হয় নি। জেলার অন্য কোথাও বঙ্গবন্ধুর সুনামগঞ্জ সফর নিয়ে সরকারি কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিছু হয় নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বললেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে লঞ্চে নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে থাকার সুযোগ হয়েছিল আমার। আমার লেখা বইয়ে আমি এই সফরের স্মৃতিচারণ করেছি। ভাটি অঞ্চলে এসে বঙ্গবন্ধু দুই দিন লঞ্চে রাত্রী যাপন করেছিলেন। নানা স্থানে সভা-সমাবেশ করেছেন। এসব স্মৃতি সংরক্ষণ হয় নি।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি (পাবলিক লাইব্রেরী’র) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ বললেন, বঙ্গবন্ধু’র সুনামগঞ্জ সফরের নানা স্মৃতি আছে আমাদেরও। যে সব স্থানে বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন সকল স্থানেই স্মৃতি সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বললেন, বঙ্গবন্ধুর সুনামগঞ্জ সফরের স্মৃতি সংরক্ষণ করার কোন কাজ হয় নি। শহরের পুরাতন সার্কিট হাউসে বঙ্গবন্ধু এসেছেন, ওখানে বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরাল করার কথা ওঠেছে। কিভাবে সেটি করা যায়, এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ওখানে বঙ্গবন্ধুর সুনামগঞ্জ সফরের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হবে। সূত্র – দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর)

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com