প্রফেসর শহীদুল আলম জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসাবে ১৯শে এপ্রিল ২০২৫ তারিখে যোগদান করেন এবং ৪আগস্ট ২০২৬ তিনি সিলেট বোর্ডে যোগদান করেন। এই স্বল্পকালীন সময়ে তিনি তার উপস্থিতির স্বাক্ষর নানা ভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে রেখে গেছেন। যাহোক তিনি যেদিন কলেজে যোগদান করেন কাকতালীয় ভাবে সেদিন আমিও কলেজে যাই। সেখানেই তার সাথে আমার দেখা এবং প্রথম পরিচয়। তার সাথে সেদিন কলেজে আমার প্রাক্তন ছাত্র ও শহীদুল আলম স্যারের বিয়ানী বাজার সরকারি কলেজের সহকর্মী অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামীমকে তার সঙ্গে দেখতে পাই। শামীম কলেজে এসেছিল স্যারদের মিষ্টি খাওয়ানোর জন্য। এক ঘরোয়া অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেদিন শহীদুল আলম স্যারকে বরণ করা হয়। শামীমের মত ছাত্রদের সাথে যখন দেখা হয় তখন গর্বে, আনন্দে মনটা ভরে উঠে। মনে হয় সত্যি সত্যি শিক্ষকতা জীবনটা অনেক সুখের, অনেক সন্মানের। এর বিপরীত অভিজ্ঞতাও যে হয়না তাও নয়।
শহীদুল আলম স্যারের আগমন উপলক্ষে আমরা যারা সরকারিকরনের প্রক্রিয়াধীন ছিলাম তাদের মনে যেমন কিছুটা সংশয় কাজ করছিলো তারচেয়ে বেশী দুর্ভাবনা ছিল কলেজের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে। সবার মনেই তখন ক্যাডার – নন ক্যাডার দ্বন্দ্বের অজানা ভয়। যদিও সেদিন শামীম নিশ্চিত করেছিলো যে উনি খুবই একজন ভালো মানুষ। শামীমের সে কথা যে শুধু কথার কথা ছিলনা তা পরবর্তীতে সবাই উপলব্ধি করে। তিনি যতদিন জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন সবাইকে নিয়েই চলেছেন। একক কোন সিদ্ধান্ত ক্ষমতা বলে কারো উপর চাপিয়ে দেননি বলেই শুনেছি। প্রত্যেকের সমস্যাকে নিজের সমস্যা হিসেবে উপলব্ধি করে সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। তাই তিনি চলে যাবার পরও সবাই থাকে মিস করে।কারো কোন অভিযোগ নেই তার উপর।আমরা যারা অবসরে গিয়েছিলাম তার যোগদানের পূর্বেই তাদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজনেও তিনি সার্বিক সহযোগিতা করেন। যদিও এই বিদায় অনুষ্ঠানের উদ্যোগক্তা ছিলেন সুরঞ্জিত কুমার সেন, আব্দুর রউফ সহ আমাদের অন্যান্য প্রাক্তন সহকর্মীরা। অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, তার সার্বিক সহযোগিতা না থাকলে এই উদ্যোগ কখনো সফল হতো না। আমাদের চাকুরীজীবনে আমাদের বেশ কজন সহকর্মী জগন্নাথপুর কলেজের চাকুরী ছেড়ে অন্যত্র চলে যান কিন্ত তাদের কারো বিদায় অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এই বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজনে যার সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল সেই সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। যাদেরকে আমরা বিদায় দিতে পারিনি তাদের মধ্যে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের শংকর চক্রবর্তী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের মাসুদ খান, অর্থনীতি বিভাগের ছায়া রানী সাহা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ফনীভুষন আচার্য, জীববিজ্ঞান বিভাগের মারুফুজ্জামান ব্যবস্থাপনা বিভাগের হরমুজ আলী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নজরুল ইসলাম।
শহীদুল ইসলাম ১৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক হিসাবে সরকারি চাকুরীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি কলেজ, জয়পুরহাট সরকারি কলেজ, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। তিনি জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ ইউনুস আলী ও মায়ের নাম সৈয়দা জয়গুন নেছা। তাঁর দুই ভাই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ও এক ভাই দুই বোন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এবং এক ভাই বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। অর্থ, বিত্ত, ভৈবব কোন কিছুই তার চিত্তকে কুলষিত করতে পারেনি। এখানেই তার অন্যন্যতা। তার নেতৃত্ব সিলেট শিক্ষা বোর্ডের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি এবং তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবনের জন্য প্রার্থনা করি।
লেখক-সহকারী অধ্যাপক (অবঃ)
জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজে।