বিশেষ প্রতিনিধি::
দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সুনামগঞ্জ—৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে টানা চতুর্থবারের মতো নৌকা প্রতীক নিয়ে বিশাল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাবেক সংসদসহ অপর তিন প্রার্থীই জামানত হারাচ্ছেন। নিজ কেন্দ্রসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে তাদের ভরাডুবি হয়েছে। জয় মিলেনি একটি কেন্দ্রেও। অপর দিকে প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়েছেন এম এ মান্নান।
রোববার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এম এ মান্নান নৌকায় ভোট পান ১ লাখ ২৬ হাজার ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী সোনালি আঁশ
প্রতীকে ভোট পেয়েছেন মাত্র চার হাজার ভোট। এছাড়াও অপর দুই প্রার্থী জাতীয় পার্টির তৌফিক আলীর মিনার (লাঙ্গল) ও বাংলাদেশ জাতীয় পাটির তালুকদার মকবুল হোসেন (কাঠাঁল) জামানত হারিয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৮ থেকে এবারের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টানা চারবার নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে এবার লজ্জাজনকভাবে পরাজিত হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী শাহীনুর পাশা চৌধুরী। একসময়ের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় এ নেতা সুনামগঞ্জ—৩ আসনে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও নানা কারণে ইমেজ কমেছে। ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের সঙ্গে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনায় আসেন। ২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদ মৃত্যুবরণ করলে শূন্য আসনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যুগ্ম সচিব (বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী) এমএ মানানকে সামান্য ভোটে
হারিয়ে নির্বাচিত হন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মান্নানের নিকট বিপুল ভোটে পরাজিত হন ধানের শীষ নিয়ে শাহীনুর পাশা। গত নির্বাচনে পাশার ভোট ছিল ৫১ হাজার ৪৮। আর এম এ মান্নান ভোট পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৬০৪ টি।
এবারের দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দলের সাংগঠনিক শৃঙলাভঙ্গের কারণে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় সাবেক এই এমপিকে। দল থেকে অব্যাহতির পর তৃণমূল বিএনপিতে যোগদান করে নির্বাচনে অংশ নেন পাশা ।
নির্বাচনে জমিয়তে ইসলাম ও বিএনপির কোন সমর্থন পাবেন না প্রথম থেকে মাঠে শোনা যাচ্ছিল। ভোটেও মিলেছে এর সত্যতা। যে কারণে এছাড়া জোটের কারণে ৩৬ মন্ত্রী—এমপি এবার পরাজিত হচ্ছেন এমন বক্তব্য
দিয়ে বিতর্কিত হন হন শাহীনুর পাশা। যা পরাজয়ের আরেকটি কারণ মনে করছেন ভোটাররা। পাশা তাঁর নিজ ভোটকেন্দ্র জগন্নাথপুরের মিনহাজপুর সেন্টারে পাশ করতে পারেন নি। এ কেন্দ্রে তিনি ৩০৫ ভোট পান। অপর দিকে ৫৬১ ভোট পান নৌকার প্রার্থী। এছাড়া জগন্নাথপুরের ৮৯টি ও শান্তিগঞ্জে ৫৬টিসহ মোট ১৪৫টি কেন্দ্রেই শাহীনুর পাশার ভয়াবহ ভোট বিপর্যয় ঘটেছে। অপর দুই প্রার্থী জাপার তৌফিক আলী মিনার ও বাংলাদেশ জাতীয় পাটির তালুকদার মকবুল হোসেনেরও নিজ নিজ কেন্দ্র্সহ সবকটি কেন্দ্রে ভরাডুবি হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু বলেন, এ আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া দলের প্রার্থী এম এ মান্নান একজন সৎ মানুষ হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়। গত ১৫ বছরে তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন। মানুষ যোগ্য ব্যক্তিকে বিজয়ী করেছে।
এ ব্যাপারে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোটেক মাওলানা শাহীনুর পাশার সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ আসনে চারবারের মতো আমাকে বিজয়ী করা হয়েছে। আমি সারাজীবন তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এলাকা উন্নয়নে প্রাণপণ চেষ্ঠা চালাব।