জগন্নাথপুর২৪ জেস্ক:
সন্তানদের নিয়ে মা-বাবার স্বপ্নের শেষ নেই। সন্তান প্রকৃত মানুষ হলেই যেন স্বস্তি মা-বাবার। এজন্য সন্তানের সুখ-শান্তির জন্য জীবনভর সকল দু:খ-কষ্ট হাসিমুখে সহে যান মা-বাবা। কিন্তু কারো সন্তান যদি অকালে পরপারে পাড়ি জমান, তবে সে কষ্ট পৃথিবীর অন্য কোন কষ্টের সাথে তুলনা করা যায় না। কথায় আছে, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ।
ছেলে জাবেদ আলীকে নিয়ে আরো দশটা বাবার মতো স্বপ্ন দেখতেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পাঠানচক গ্রামের হাজী কয়েছ আলী। মা-বাবার আদরের সন্তান ছিল জাবেদ। পড়ালেখা শেষ করে জাবেদ পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে, মানুষের মতো মানুষ হবে- এমন স্বপ্ন দেখতেন তার বাবা-মা। কিন্তু কয়েছ আলীর পরিবারের সেই স্বপ্ন খুব বেশি ডালপালা মেলতে পারেনি।
মাত্র ১৮ বছর বয়সে দুরারোগ্য ক্যান্সার সবার কাছ থেকে কেড়ে নেয় জাবেদকে। যুক্তরাজ্যের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও তাকে আটকে রাখতে পারেনি। মহান রাব্বুল আলামিনের ডাকে সাড়া দিয়ে তাকে চলে যেতে হয়েছে। ছেলেকে নিয়ে হাজী কয়েছ আলীর ইহজাগতিক স্বপ্নের অবসান ঘটেছে। তবে তিনি চান পরপারে ছেলে যেন ভালো থাকে। মহান রাব্বুল আলামিন তাকে যেন কাছে ডেকে নেন। বেহেশতি চাদরে ঢেকে রাখেন তাকে।
সেই মনোবাসনা থেকে ছেলের রূহের মাগফেরাত কামনায় ফেঞ্চুগঞ্জে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছেন তিনি। নিজের গ্রামের বাড়ি পাঠানচক গ্রামে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন তিনি। দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদটির নাম দেয়া হয়েছে পাঠানচক মোকামবাড়ি জামে মসজিদ।
মসজিদের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক সকল সরঞ্জামাদি। আধুনিক নকশা, দামি ঝাড়বাতি আর দামি টাইলসের ব্যবহারে মসজিদটি হয়ে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন। ৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব মসজিদটির উদ্বোধন করেছেন। সদকায়ে জারিয়া হিসেবে মসজিদটি অকাল প্রয়াত জাবেদ আলীর মাগফেরাতের উছিলা হবে বলে মনে করেন তার পরিবারের সদস্যরা।
মসজিদের উপরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সবুজ মিনার। তাই দূর থেকেও মানুষের নজরকাড়ে মসজিদটি। মসজিদটিতে একসাথে পাঁচশ’ মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানালেন সংশ্লিষ্টরা।
সুত্র সিলেট ভিউ।