স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় আবাবিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডি শুরু হয়েছে।
শনিবার বিকেল চার থেকে গতকাল রোববার বিকেল ৪ ঘন্টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘন্টায় কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়েছে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
উপজেলাবাসী জানান, সম্প্রতিকালে জগন্নাথপুর উপজেলায় লোডশেডিং অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। উপজেলা সদরের গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ মিলেনি। তবে জগন্নাথপুরের গ্রাম অঞ্চলে ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রানীগঞ্জের দোলন মিয়া জানান, আমাদের গ্রামগুলোতে তীব্র লোডশেডিং করা হয়েছে। দিবারাত্রি ১৫ থেকে ১৬ ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়। এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়াটা বুঝা যায় কিন্তু কখন আসে সেটা বুঝা যায়নি।
সৈয়দপুরের মুরাদাবাদ গ্রামের শাহিনুর মাহমুদ জানান, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পানির মটর চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফলে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমের যন্ত্রনায় কষ্ঠকর হয়ে উঠেছে জীবন।
পৌরশহরের বাসিন্দা হুসেন আলী জানান, গত এপ্রিল মাসে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের পর আবারও বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ উপজেলায় দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রামীনফোনের নেটওয়ার্ট, ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চালানো যায় না পানির মটর, ফ্যান, ফ্রিজসহ বিদ্যুৎ চালিত সেবামূলক যন্ত্রগুলি। এজন্য অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পড়তে হয়।
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম আজাদ বলেন, জাতীয় পযার্য়ে
বিদ্যুতের সংকট দেখা দেয়ায় জগন্নাথপুরেও লোডশেডিং করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ উপজেলায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৯ মেগাওয়াট। কিন্তু ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ফলে ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। দক্ষিণ সুরমা গ্রিড নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বরাদ্দ সার্বক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাপ্ত বরাদ্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে (রোটেশন ভিত্তিতে) লোডশেডিং পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানালেন, রাতের দিকে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে প্রায় ১০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। ওই সময়ে কোনো কোনো পর্যায়ে বরাদ্দ প্রায় ৫ মেগাওয়াটে নেমে আসায় চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি সৃষ্টি হয়। শনিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ১৬ ঘণ্টার মধ্যে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট সময়ে প্রায় ঘাটতি থাকায় রোটেশন ভিত্তিতে প্রতিটি এলাকায় ৬-৭ ঘন্টা লোডশেডিং করা হয়েছে।