স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে হাওরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়ার দুই সহোদয়সহ চারজনের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ (২ আগষ্ট) সকালে দুইজনের লাশ উদ্ধার হয়। এরআগে শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুইজনের মরদেহ।
সকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রুয়ারকারা নামক স্থান থেকে পৌরসভার ভবানীপুরের মৃত জোগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ (৩০) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অধির দেবনাথের (৪০) মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে দিন শনিবার অধির দেবনাথের বড় ভাই অরুণ দেবনাথের (৪৫) মৃত দেহ উদ্ধার হয় এবং একই এলাকার মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সতীন্দ্র দেবনাথের (৬৫) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নৌকাডুবির ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না যেন থামছে না।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ভবানীপুর গ্রামের ৯ জন ব্যক্তি হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান কীর্তনে অংশ নেন। রাত ৩টার দিকে ডিঙ্গি নৌকার যোগে বাড়ি ফেরার পথে পৌরএলাকার বৈঠাখালী নামক স্থানে পৌছাঁমাত্র নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৫ জন সাতাঁর কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নৌকা থাকা ভবানীপুরের অধীর দেবনাথ ও তাঁর ভাই অরুণ দেবনাথ একই এলাকার হেমেন্দ্র দেবনাথ এবং সতীন্দ্র (৬৫) নিখোঁজ হয়েছিলেন। শনি ও রোববার পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে। নিখোঁজ চারজনের লাশ উদ্ধার করেন।
সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, স্বজনহারানো পরিবারের লোকজনের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে।
নিহত হেমেন্দ্র দেবনাথ এর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী সম্পা রানী দেবনাথ চিৎকার করে কাদঁছেন। প্রতিবেশিরা তাকে সান্ত্রনা দিয়েছেন।
সম্পা রানী জানান, আট বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কাঠমিস্ত্রি কাজ করে দুই সন্তান নিয়ে স্বামী সংসার সুখ শান্তিতে চলছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকৃত ব্যক্তিকে হারিয়ে আমি দিশেহারা। তিনি হাঁউমাঁউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন আমি এখন অবুঝ দুই সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচমু।
ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ভবানীপুর গ্রামের নিশি দেবনাথ বলেন, রাত ১০টার দিকে গ্রামের পাশের মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় কীর্তন শুনতে গিয়েছিলাম আমরা ৯জন। রাত ৩ থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আমরা নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। বৈঠাখালী এলাকায় পৌছাঁমাত্র হঠাৎ করে নৌকায় পানি ভরে উঠল। তখন হাল্কা বাতাস ছিল। মুহুর্তের ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়ে নৌকাটি ডুবে গেল। জীবন বাঁচাতে আমরা যে যেদিকে পারি সাতাঁর কেটে তীরে উঠার চেষ্টা চালায়। ভাগ্যক্রমে আমরা ৫ জন বেঁচে গেলেও ৪ জন নিখোঁজ হন। গত দুইদিনের উদ্ধার অভিযানে তাঁদের সবার মৃত লাশ পাওয়া গেছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসলাম উদ্দিন বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় একই গ্রামের চারজনের মর্মান্তির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহায়তা করব।
এদিকে একই গ্রামের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পোষ্টে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় নৌকাডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।