ইসলামে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মুসলমানদের জন্য দিনটি অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। জুমার দিনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এই দিনে এমন একটি মোবারক সময় রয়েছে, যখন আল্লাহ তাআলা বান্দার যেকোনো বৈধ দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল করেন। হাদিস শরিফে এই বিশেষ সময়টির ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে জুমার দিনে দোয়া কবুলের সেই বিশেষ সময়টি ঠিক কোনটি, তা নিয়ে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে কিছুটা মতানৈক্য থাকলেও দোয়া কবুল হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক হাদিসের আলোকে জুমার দিনের সেই মহামূল্যবান সময় কোনটি।
দোয়া কবুলের এই বিশেষ মুহূর্তটি সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, সেই সময়টায় যদি কোনো মুসলিম নামাজ আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দোয়া কবুল করবেন।’ এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (সহিহ বুখারি: ৬৪০০)
এ ছাড়া আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘জুমার দিন এমন একটি সময় আছে, যেটাতে বান্দা আল্লাহর কাছে কোনো দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন।’ (মুসান্নাফ আবদির রাজ্জাক: ৫৫৮৮)
দোয়া কবুলের নির্দিষ্ট সময় নিয়ে একাধিক বর্ণনা থাকলেও অধিকাংশ বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকপাত আসরের শেষ সময়ের দিকেই।
জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘জুমার দিনের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোনো মুসলিম এ সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাকে তা দান করেন। মুহূর্তটি তোমরা আসরের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮; সুনানে নাসায়ি: ১৩৮৯)
একইভাবে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, ‘শুক্রবারে আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিতে দোয়া কবুল হয়।’ বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থ যাদুল মাআদে উল্লেখ রয়েছে যে, জুমার দিন আসরের নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুল হয়ে থাকে। (যাদুল মাআদ: ২ / ৩৯৪)