1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করলো পাষণ্ড বাবা জগন্নাথপুরের কলকলিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির পূনাঙ্গ কমিটি অনুমোদন সিলেট স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের লাশ উদ্ধার সহসাই খুলছে না হরমুজ প্রণালি, বাড়ছে তেলের দাম সিলেটে পারিবারিক কলহের জেরে দ্বিতীয় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা, প্রথম স্ত্রীসহ আটক স্বামী জামানত ছাড়াই তরুণদের ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ দিবে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘যে বিষয়ে আপনার জ্ঞান নেই, তাতে ধৈর্য রাখবেন কীভাবে?‘ জগন্নাথপুরে অনিয়মের অভিযোগে তোপের মুখে বিদ্যালয় সড়ক সংস্কার কাজ বন্ধ  অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর বার্তা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার

ডুবে যাওয়া ধান তুলতে লড়ছেন কৃষকরা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::
টানা তিন দিনের বৃষ্টিপাতের পর আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রোদের দেখা মিলেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায়। রৌদ্র উজ্জ্বল আকাশ হাসলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। চোখেমুখে উদ্বেগ উৎকন্ঠা ও কষ্টের চাপ। তবুও জীবন বাঁচাতে হাওরে ডুবে যাওয়া সোনালী ফসল তুলতে নতুন করে সংগ্রামে নেমেছেন কৃষকরা।

জেলার অন্যতম হাওর জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরে ঘুরে দেখা যায়, অব্যাহত বৃষ্টিতে হাওরের আধা পাকা বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কেউ কেউ ডুবে যাওয়া ধান কাটার সংগ্রামে নেমেছেন। আবার অনেক কৃষক শ্রমিকের সন্ধানে পাগলের মতো ঘুরছেন। এবার হাওরে তীব্র শ্রমিক সংকট রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে ধান কাটার যন্ত্র হারেভষ্টারের ওপর এখনকার কৃষক অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় বাহিরের এলাকা থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসেনি। এবছর বোরো ধান কর্তনের শুরুর দিকে বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় ফসলের মাঠে নামানো যায়নি হারভেষ্টার।

নলুয়া হাওরের দাসনাগাঁও গ্রামের কৃষক নান্টু দাস বলেন, গত তিন দিনের বৃষ্টিতে কষ্টের ফলানো বোরো জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। আজকে আবহাওয়া ভালো হওয়াতে শ্রমিক না পেয়ে নিজের পরিবারের লোকজন নিয়ে ডুবে যাওয়া ধান কাটার চেষ্টা করছি। এবার ৩০ কেদার জমিতে আবাদ করছি। এরমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে ১৫ কেদারের জমি।

উপজেলার রূপসা হাওরের কৃষক হরিনাকান্দি গ্রামের রাখাল দাস জানান, সাত কেদার জমি আবাদ করেছিলেন এক ছটাক ধান তুলতে পারেননি। আজ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে হাওরে গিয়ে চেষ্টা করে ধান তুলতে কিন্তু পারেননি। টানা বৃষ্টিতে ধান গভীর পানির নীচে চলে গেছে।

একই গ্রামের দীপক দাস জানান বুক পানিতে নেমে এক কেদার জমির ধান তুলতে পারলেও ছয় কেদার জমির ধান তুলতে পারেননি। তাদের অভিযোগ হলিমপুর চড়গাঁও বেড়িবাঁধের কারণে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় ফসল ডুবির ঘটনা ঘটে।

বড়বিল হাওরের কৃষক অমর তালুকদার জানান,শুরুতেই আমরা জলাবদ্ধতা নিয়ে আতঙ্কে ছিলাম। সংশ্লিষ্টদের জানালেও কেউ প্রতীকার করেননি ফলে হাওর ডুবির ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, বড়বিল হাওরে দেড় শতাধিক কৃষকের জমি রয়েছে সব জমিই পানির নীচে। কেউ কেউ কিছু তুলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সুফল মিলছে না।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সময় হাওরে ধান কাটার উৎসবে ব্যস্ত থাকেন হাওরের মানুষ। কিন্তু এবার অসময়ে বৃষ্টির পানিতে থৈ থৈ করছে হাওর। বাড়ির পাশে ধান শুকানোর খলার উঠে গেছে পানি। টানা ঝড় বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক জানিয়েছেন, এবছর বোরো মৌসুমের শুরুতেই হাওরে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এজন্যে হাওরে হারভেষ্টার মেশিনের ধান কাটা ব্যাহত হয়। এরমধ্যে ছিল তীব্র শ্রমিক সংকট। এছাড়া ধান তোলতে অতিরিক্ত টাকা খরছ করেও মিলছে না শ্রমিক। রয়েছে পরিবহণে দুর্ভোগ।

নলুয়া হাওর ব্যষ্টিত চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, নলুয়ার হাওরের ৫০ ভাগ আধা পাকাধান অতি বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। অব্যাহত বৃষ্টির পর রোদের দেখা মিললেও কৃষকের দুঃখ দুর্দশা কাটছে না। অতিরিক্ত টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। সময় মতো ধান শুকাতে না পারায় ধানে পচন ধরেছে। আছে গো খাদ্যের তীব্র সংকট। তবে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ফসল তোলার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে লড়ছেন কৃষক।

জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ জানান, জগন্নাথপুরে ইতিমধ্যে ৬৫ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। আর বৃষ্টি না হলে রোদ থাকলে কষ্ট হলেও তলিয়ে যাওয়া ধান উত্তোলন সম্ভব। পানির নীচে ধান সহজে নষ্ট হয় না।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে রয়েছি। নানা উদ্যাগ নিয়ে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com