1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের লাশ/ বাসায় ডেকে আনা ব্যক্তিই কেড়ে নেন তিন প্রাণ: পিবিআই দিরাইয়ে জলমহাল থেকে দেড় কোটি টাকার মাছ লুটের অভিযোগ বিদ্যুৎ সংকট কমবে কবে, জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে জগন্নাথপুরে র‍্যালি ও আলোচনাসভা ​ জ্বালানি সংকট উত্তরণে সংসদে বিরোধী দলের ৪ প্রস্তাব, সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরলেন প্রতিমন্ত্রী দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বাড়িতে মিললো যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ সত্য প্রতিষ্ঠায় ন্যায় ও শিষ্টাচারের গুরুত্ব ১০ বার ডেকেও আসেননি নার্স! জগন্নাথপুর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, অবহেলার অভিযোগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী

দাড়ি কেন রাখতে বলে ইসলাম

  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৯৭ Time View

ইসলামে দাড়ি রাখা একটি আবশ্যকীয় বিধান, যা একজন মুসলিমের পরিচয় বহন করে। আধুনিক যুগে অনেকে একে ঐচ্ছিক বা গুরুত্বহীন মনে করলেও, কোরআন ও হাদিসের আলোকে দাড়ি রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়।

দাড়ি রাখা নবীদের সুন্নত

দাড়ি রাখা শুধু নবীজির সুন্নত নয়, বরং এটি পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও রীতি ছিল। পবিত্র কোরআনে নবী হারুনের দাড়ির কথা রয়েছে, যেখানে তিনি তাঁর ভাই নবী মুসাকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘হে আমার সহোদর, আমার দাড়ি ও মাথার চুল ধরো না।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত: ৯৪)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, দাড়ি নবীদের একটি স্বাভাবিক ও স্বীকৃত বৈশিষ্ট্য ছিল।

হাদিসে দাড়ি রাখার নির্দেশ

দাড়ি রাখার ব্যাপারে পবিত্র হাদিসে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। নবীজি (সা.) নিজে দাড়ি রাখতেন এবং উম্মতকে দাড়ি লম্বা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মোচ কাটো এবং দাড়ি ছেড়ে দাও (লম্বা করো), আর অগ্নিপূজকদের বিপরীত আচরণ করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬০)

দাড়ি রাখার বিধান

দাড়ি ইসলামের শিআর ও পরিচয়চিহ্ন। যেহেতু এটি সব নবীর পবিত্র রীতি ছিল, তাই একে ‘সুন্নত’ও বলা হয়। তবে এটি সাধারণ ঐচ্ছিক সুন্নতের মতো নয়, বরং ‘সুন্নাতে ওয়াজিবা’, যা সুন্নাতে মুআক্কাদা অপেক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ এবং যা পরিত্যাগ করলে পাপ হয়।

দাড়ি রাখার পরিমাণ হলো সর্বনিম্ন এক মুষ্টি। এর কমে দাড়ি কাটা সব ইমামের ঐকমত্যে নিষিদ্ধ। (আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি, ফাইজুল বারি শারহু বুখারি, ৬/৯৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ২০০৫)

দাড়ি রাখার ফজিলত

দাড়ি ইসলামি শরিয়তে একটি স্বীকৃত সুন্নত ও মুসলিম পরিচয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দাড়ি রাখার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত রয়েছে। যেমন—

১. সুন্নতের অনুসরণ : দাড়ি রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম রাসুল (সা.) ও পূর্ববর্তী নবীদের সুন্নতকে জীবনে বাস্তবায়ন করেন, যা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। আল্লাহ–তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ২১)

২. রাসুলের আদেশ মানা: দাড়ি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের নির্দেশ মান্য করার একটি দৃশ্যমান প্রকাশ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি যখন তোমাদের কোনো ব্যাপারে নিষেধ করি, তখন তা থেকে বেঁচে থাকো। আর যখন কোনো বিষয়ে আদেশ করি, তখন সাধ্যানুযায়ী তা পালন করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৮৮)

৩. ভিন্ন ধর্ম থেকে স্বাতন্ত্র্য: দাড়ি রাখার মাধ্যমে একজন মুসলিম মুশরিক ও অন্যান্য জাতি থেকে নিজেকে পৃথক রাখে, যা নবীজির সুস্পষ্ট নির্দেশ। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা মুশরিকদের উল্টো করবে—দাড়ি লম্বা রাখবে, গোঁফ ছোট করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৮৯২)

৪. পাপ থেকে বাঁচার মাধ্যম: মুখে দাড়ি থাকলে একজন মানুষ স্বভাবতই অনেক অন্যায়, অশ্লীল বা পাপের কাজ থেকে লজ্জাবোধ করে দূরে থাকে, আর লজ্জা ইমানেরই একটি অংশ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইমানের ষাটেরও অধিক শাখা আছে। আর লজ্জা হচ্ছে ইমানের একটি শাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯)

৫. শহীদের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ: বর্তমান সময়ে ভিন্নধর্মীদের অনুকরণ মুসলিমদের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নাজুক সময়ে যে নবীজির সুন্নত পালনকারীর জন্য রয়েছে মহা সুসংবাদ। হাদিসে এসেছে, ‘আমার উম্মতের ফাসাদের সময় যে আমার সুন্নতকে ধারণ করবে, সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে।’ (তাবরানি, হাদিস ৫৪১৪)

৬. নবীজি চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্য: একজন মুমিনের জন্য এর চেয়ে বড় সৌভাগ্য আর কী হতে পারে যে তার চেহারা প্রিয় নবীজির চেহারার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হবে! তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪০৩১)

সৌজন্যে প্রথম আলো.কম 

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com