দিরাই সংবাদদাতা
দিরাই পৌরসভার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এক যুবক উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ মার্চ থেকে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। নানা কৌশলে বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হন। ওই যুবকের নাম কিশোর দে (২৬)। সে পৌরসভার হারনপুরে ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাসকারী দিনমজুর কৃপেশ দে’র ছেলে।
দিরাই বাজারের ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের মালিক নিলাদ্রী রায় রাজু’র ম্যানেজার হিসেবে সে গত ১০/১১ বছর ধরে কাজ করে আসছিল। কিশোর খুব মিশুক ধরনের লোক ছিলো। অল্প সময়ের মধ্যে বাজারের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই সুবাদে ধানসহ নানা পণ্য মজুত রাখার কথা বলে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার অনেকের টাকা দেবার কথা থাকলেও তিনি উধাও হয়ে যান। এরপর থেকে প্রায় ২০/২৫জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নানা জায়গায় সন্ধান করেও তাঁকে পাননি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বে থাকা রাজীব রায় বলেন, এই দোকানের মালিক নিলাদ্রী রায় রাজু এখন বিদেশে আছেন। তিনি দেশে থাকাকালীন এই দোকানের ম্যানেজার ছিল কিশোর। কিন্তু আমার বন্ধু নিলাদ্রী রায় রাজু বিদেশ চলে যাবার আগে আমাকে দোকানের দায়িত্ব দিয়ে যায়। তারপর থেকে কিশোর আর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেনা। আমি নতুন তাই কিশোরকে মাঝে মধ্যে আমাকে সাহায্য করতে বলেছিলাম, সেই সুবাদে কিশোর শ্যামারচর বাজারের ব্যবসায়ীর কাছে আমার পাওনা টাকা আদায় করে। কিন্তু টাকা আমাকে দেয়নি সেই সাথে তাকে ব্যাংকে এক ট্রাক পণ্যের চালান জমা দিতে টাকা দিয়েছিলাম সে চালানও জমা দেয়নি। সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৬ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে কিশোর।
ভুক্তভোগী অলক রায় বলেন, কিশোর আমার বন্ধু ছিল। সে ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমার জানা মতে, রিপন রায় ১৫ লক্ষ টাকা, অসীম রায় ৫ লক্ষ টাকা, নূর মিয়া ৫ লক্ষ টাকা, ইকবাল মিয়া ৩ লক্ষ টাকা, দিবাকর মোদক ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, শংকর, আলামীনসহ এভাবে প্রায় ২০/২৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নিয়েছেন সে।
প্রতারণার শিকার গহর তালুকদার বলেন, লাভের একটি অংশ দেওয়ার শর্তে কিশোর আমাদের তিনজনের কাছ থেকে চাল, গম কেনার কথা বলে ৪/৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আসলে তাকে অনেক বিশ্বাস করতাম সে যে এমনটা করতে পারে তা কখনও ভাবতে পারিনি।
সাবেক ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ মিয়া বলেন, সে ধান স্টক করার কথা বলে আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা নিয়েছে। সবার মতো আমিও ক্ষতিগ্রস্ত। কিশোর কোথায় আছে, আমার জানা নেই। তার ফোন নাম্বার বন্ধ। সে বাড়িতেও নেই। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ মিয়া।
এ বিষয়ে কিশোর দে’র বাসায় গেলে তাঁর পিতা কৃপেশ দে বলেন, আমার ছেলে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় আসতেছি বলে ঘর থেকে বের হয়, এরপর তাঁর আর কোন খবর পাচ্ছি না। ঋণের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানায় এসব বিষয়ে কিশোর কোন কথা আমাদের জানায়নি। তিন মাস ধরে কিশোর পরিবারের খরচ চালায় আর ঘরের অবস্থা দেখে কি মনে হয় কিশোর এত টাকা নিয়েছে।
কিশোরের ছোট বোন পর্না দে বলেন, আমি টিউশনি করেই আমার পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছি। ভাই কিছুদিন ধরে আমার পড়াশোনা খরচ দিচ্ছে তাছাড়া আমার আরেক বোন লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকরি করে। আমার ভাই এমন কাজ করতে পারে না। আমার ভাই সেদিন খালি হাতে ঘর থেকে বেড় হয়ে যায় তারপর থেকে ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার বন্ধ পাচ্ছি।
কিশোরের মা বলেন, বুধবার সকালে কিশোর আমার হাতে ভাত খায়- আগে যদি বুঝতে পারতাম তাহলে যে কোন উপায়ে তাকে আটকাতাম