জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার সুইং অ্যান্ড ফিনিশিং সেকশনের একটি ফ্লোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায় সেখানে। এতে করে ওই কারখানার আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় কারখানাটি বন্ধ ছিল। ফলে শ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিস্ফোরণে ওই কারখানার সাত তলার দুটি দেয়াল ভেঙে ঢাকা সিলেট মহসড়কের ওপর পড়ে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, কারখানার ভবনের সাত তলার ফ্লোরটিতে রয়েছে সুইং ও ফিনিশিং সেকশন। ওই ফ্লোরে দরজা-জানালা বন্ধ থাকায় সেখানে গ্যাসের সৃষ্টি হয়। আর ওই গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে।
ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ওসমান গনি বলেন, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বরপা এলাকায় অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড কারখানায় আগুনের খবর পাই। আমরা সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করি। ১০টা ৫ মিনিটে আগুন নেভাতে সক্ষম হই। ফায়ার সার্ভিসের এর তিনটি ইউনিট কাজ করে। তিনি আরো জানান, ৫০ মিনিটের মধ্যে আগুন নেভানো হয়। বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সৃষ্টি হলেও বিস্ফোরণের কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি (অপারেশন) তন্ময় মন্ডল জানান, বরপা এলাকায় অন্তিম নিটিং ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে কাজ করছে। বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আলমগীর হোসেন জানান, অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড কারখানায় একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আগুন লেগে যায়- এমন সংবাদের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। বিস্ফোরণের ফলে সাত তলা ফ্লোরের পাকা দেয়াল ভেঙে উড়ে যায়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দের কারণে কারখানার নিচতলায় মূলগেটের পাকা দেয়াল ও গেইট ভেঙে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের ওপরে পড়ে যায়। দ্রুত আগুন নেভানোর কারণে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
কারখানার শ্রমিক আলামিন, ইয়াসমিন, মনির হোসেন, কামাল মিয়াসহ আরো কয়েকজন জানায়, অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সপ্তাহের শুক্রবার কারখানাটি বন্ধ থাকে। আর শুক্রবার কারখানায় কোনো শ্রমিক না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শ্রমিকরা। তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেনি ।
অন্তিম নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিং লিমিটেড কারখানার এইচআর অ্যাডমিন মাহবুবুর রহমান বলেন, কারখানার সাত তলায় সুইং সেকশন। ওই ফ্লোরটির দরজার জানালা বন্ধ ছিল। কারখানার সুইং শাখায় রুম বন্ধ থাকায় গ্যাস জমাট বেঁধে ওই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। কারণ তদন্ত করে বলা যাবে। কারখানায় শ্রমিক না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরির্দশক শরফুউদ্দিন জানান, বিস্ফোরণের পর কারখানার দেয়াল এসে রাস্তায় পড়ায় যানচলাচলে ব্যাঘাত ঘটে। তারওপর স্থানীয়রা মানুষরা গিয়ে ভিড় করায় কিছু সময়ের জন্য যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত গিয়ে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।