1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন

নৈরাজ্য ও অরাজকতার বিরুদ্ধে ইসলামের অবস্থান

  • Update Time : রবিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ Time View

ইসলাম সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের ধর্ম। এর মূল লক্ষ্য হলো মানবসমাজ থেকে সকল প্রকার ফেতনা-ফ্যাসাদ, জুলুম, অনাচার ও বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অরাজকতা দূর করে একটি ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ উপহার দেওয়া। যুগে যুগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বহু নবী-রাসুলকে এই শান্তি ও ন্যায়ের বার্তা দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যেন তাঁরা অন্ধকারজগতের বাসিন্দাদের আলোর পথে ফিরিয়ে এনে দিশাহীনদের সঠিক পথ দেখাতে পারেন। কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, মানুষের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করা ইসলামের মৌলিক কর্তব্য। এ জন্য ইসলামে নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এবং সমাজের শৃঙ্খলা নষ্টকারী সব ধরনের কার্যকলাপকে ঘৃণিত পাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

হত্যা ও রক্তপাতের বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর হুঁশিয়ারি

নৈরাজ্য ও অরাজকতার সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ হলো অন্যায়ভাবে মানুষের রক্তপাত ঘটানো বা হত্যা করা। ইসলামে এটিকে জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে দেখা হয়েছে। অন্যায়ভাবে বিচারবহির্ভূত মানুষ হত্যা, পৃথিবীতে রক্তপাত, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—যে অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করল, সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকেই হত্যা করল। আর যে কারও প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করল। (সুরা মায়েদা: ৩২)। অন্যত্র হত্যার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে, তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন ভয়ংকর শাস্তি।’ (সুরা নিসা: ৯৩)

এমনকি, কিয়ামতের দিবসে সর্বপ্রথম রক্তপাত তথা হত্যার বিচার হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম রাষ্ট্রের অমুসলিম নাগরিক (জিম্মি) হত্যা সম্পর্কেও কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, হত্যাকারী জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। এই নির্দেশনাসমূহ প্রমাণ করে, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতরা পথভ্রষ্ট, তাদের কোনো ধর্ম নেই।

ফিতনা (বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি: হত্যা অপেক্ষাও মারাত্মক অপরাধ

ইসলামে অরাজকতা, অস্থিরতা, হানাহানি, মতবিরোধ এবং গুজব ছড়িয়ে সমাজে ফিতনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাকে অত্যন্ত গুরুতর পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোরআনে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, ‘ফেতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর পাপ।’ (সুরা বাকারা: ১৯১)। এ ছাড়া আল্লাহ তাআলা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের অপছন্দ করেন—‘পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হইও না। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা কাসাস: ৭৭)

ইসলাম এসব কর্ম পরিহার করে সর্বদা ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। নবীজি (সা.) উম্মতকে শেষ জামানায় আগত ফিতনা থেকে বাঁচতে বারবার সতর্ক করেছেন এবং ফিতনার সময় নেক আমলের দিকে অগ্রসর হতে ও মুসলিম জামাত আঁকড়ে ধরে থাকার গুরুত্ব দিয়েছেন।

অর্থনৈতিক নৈরাজ্য ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য

শান্তি ও শৃঙ্খলার প্রধান শত্রু কেবল বোমাবাজি বা সন্ত্রাস নয়, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যও সমাজকে গ্রাস করে। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকা, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মুনাফালিপ্সা এর বড় প্রমাণ। সরবরাহের ঘাটতি না থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তাকে উচ্চমূল্য দিতে হচ্ছে। এটিও একধরনের সামাজিক নৈরাজ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের অর্থনৈতিক অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—‘যে ব্যক্তি মূল্যবৃদ্ধির অসদুদ্দেশে মুসলমানদের লেনদেনে হস্তক্ষেপ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে আগুনের হাঁড়িতে বসিয়ে শাস্তি দেবেন।’ (তাবরানি: ৮ / ২১০)

নৈরাজ্য রোধে কার্যকর হাতিয়ার: খোদাভীতি ও জবাবদিহির মানসিকতা

নৈরাজ্য ও অরাজকতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রধান উপায় হলো মানুষের মধ্যে খোদাভীতি (তাকওয়া) এবং পরকালীন জবাবদিহির মানসিকতা সৃষ্টি করা। যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি এবং আখিরাতে হিসাব দেওয়ার পরোয়া নেই, তাদের মধ্যেই অরাজকতার স্বভাব সহজে প্রবেশ করে। জনসাধারণকে অবহিত করতে হবে যে দুনিয়ায় মানুষের চোখকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আখিরাতে আল্লাহর দরবারে সব কর্মকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে। এমনকি কিয়ামতের দিন হাত-পা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গও কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে। আল্লাহ তাআলার ঘোষণা—‘আজ আমি তাদের মুখে মোহর এঁটে দেব, তাদের হাত আমার সঙ্গে কথা বলবে এবং তাদের পা তাদের কৃতকর্মের সাক্ষ্য দেবে।’ (সুরা ইয়াসিন: ৬৫)

যাদের মধ্যে তাকওয়া থাকবে, তারা কখনো অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে না। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, যখন কোনো এলাকার মানুষ ইমান আনবে এবং তাকওয়ার জীবন অবলম্বন করবে, তখন তাদের ওপর আসমান-জমিনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দেওয়া হবে।

ইসলামি শরিয়তের দুই মূল উৎস কোরআন ও সুন্নাহর বিধানকে নিজেদের জীবনের জন্য অপরিহার্য করে তোলাই হলো সব ধরনের নৈরাজ্য ও অরাজকতা থেকে বাঁচার কার্যকর উপায়। রাষ্ট্রীয় আইন যেমন অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি খোদাভীতি হলো অপরাধ দমনের অভ্যন্তরীণ ঢাল। আমাদের কর্তব্য হলো সত্যিকারের ইসলামি জীবনচর্চার মাধ্যমে সমাজকে ফিতনা ও অরাজকতা থেকে রক্ষা করে পরিবার ও রাষ্ট্রের সর্বত্র শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সৌজন্যে আজকের পত্রিকা.কম

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com