1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

পায়ুপথে ঢুকল কুচিয়া !!! অস্ত্রোপচারের অপসারণ

  • Update Time : বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০২৪
  • ১৮৯ Time View

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মিরতিঙ্গা চা বাগানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বাসিন্দা সম্রা মুন্ডার পেটে অস্ত্রোপচার করে দুই ফুট এক ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের কুঁচিয়া বের করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি গত শনিবার বিকেলের। ভুক্তভোগী মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের মিরতিঙ্গা চা–বাগানের জেলে সম্রা মুণ্ডা (৫৫)। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রী বাগানে কাজ করেন। দুই ছেলে কুঁচিয়া ধরেন। শনিবার সকাল সাতটার দিকে ছোট ছেলে তপন মুণ্ডাকে সঙ্গে নিয়ে মৌলভীবাজারের হাইল হাওরে কুঁচিয়া ধরতে গিয়েছিলেন তিনি। সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কেজি কুঁচিয়া ধরেন সম্রা। শেষ দিকে একটি গর্তে আরও দুটি কুঁচিয়া পান।

বাবা–ছেলের সঙ্গে কথা বলে আরও জানান, থলেতে ভরার জন্য দুই হাতে দুটি কুঁচিয়া ধরেন সম্রা মুণ্ডা। কিন্তু থলেতে ভরার আগে কাদামাটিতে পা পিছলে তিনি পড়ে যান। একপর্যায়ে হাত থেকে কুঁচিয়া দুটি ছুটে যায়। এর মধ্যে একটি তাঁর পরনের প্যান্টের মধ্যে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে পায়ুপথ দিয়ে কিছু একটা ঢুকে পড়ার অনুভূতি পান তিনি। তখন বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি সম্রা মুণ্ডা।

সম্রা মুণ্ডা জানান, তাঁদের বাড়ি থেকে হাইল হাওরের দূরত্ব প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার। তিনি হাওর থেকে এলাকায় ফিরে কুঁচিয়াগুলো বিক্রি করেন। আড়াই কেজি প্রায় ৮০০ টাকায় বিক্রির পর বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু বলেননি। রাতে বাড়িতে থাকা একটি কুঁচিয়া রান্না করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া শেষ করেন।

পরের দিন সকালে পেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন সম্রা মুণ্ডা। এরপর ছোট ছেলেকে নিয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে চিকিৎসককে পায়ুপথ দিয়ে ঢুকে যেতে পারে বলে জানান। পরে সেখান থেকে সম্রা মুণ্ডাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা তার কথা শুনে এক্স-রে করান। এতে ধরা পড়ে পেটের ভেতর লম্বা আকৃতির একটি বস্তু। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সিনিয়রদের সঙ্গে আলাপ করে সম্ররা মুন্ডাকে সন্ধ্যায় অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেখানে প্রফেসর জানে আলমের নেতৃত্বে চার চিকিৎসক দুই ঘণ্টা অপারেশন চালিয়ে পেটের ভেতর থেকে একটি জীবন্ত কুঁচিয়া মাছ বের করেন। এ ঘটনায় ডাক্তাররা বিস্মিত হন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সৌমিত্র চক্রবর্তী বলেন, কুঁচিয়াটি পেটের ভেতরে জীবিত অবস্থায় ছিল। অস্ত্রোপচার করে প্রায় দুই ফুট লম্বা কুঁচিয়া মাছ বের করা হয়েছে। সেটি আরও বেশি সময় থাকলে ওই জেলের মৃত্যু হতে পারত।

ওই চিকিৎসক জানান, কুঁচিয়াটি সম্রা মুণ্ডার পেটের মধ্যে কিছু নাড়ি কেটে ফেলেছে, যার কারণে পায়খানার রাস্তা বন্ধ রেখে আপাতত নল দেওয়া হয়েছে। দেড় মাস পর আরও একটি অস্ত্রোপচার করতে হবে। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com