1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

পুত্রশোকে লজ্জিত এক মা

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭
  • ৩০৭ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: আমি সন্তান হারিয়েছি। তাই নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কষ্টটা আমি বুঝতে পারি। তবে তাঁদের কষ্টের সঙ্গে আমার কষ্ট মেলানোর সাহস নেই। বরং তাঁদের কাছে নিজেকে মা বলে পরিচয় দিতেই ঘৃণা হচ্ছে। কষ্ট পাচ্ছি, এটুকু বলারও সাহস নেই আমার।’ এমন করেই নিজের অভিব্যক্তির কথা জানাচ্ছিলেন লন্ডন ব্রিজে হামলাকারী ইউসুফ জাগবার মা ভ্যালেরিয়া কলিনা খাদিজা।

গতকাল বুধবার বিবিসিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মা জানান, কীভাবে বদলে গিয়েছিলেন তাঁর ছেলে ইউসুফ। মরক্কোর বংশোদ্ভূত ইতালির নাগরিক ইউসুফ জাগবা। তবে তাঁর মা ভ্যালেরিয়া জন্মসূত্রে মুসলিম নন। তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইতালিতেই থাকেন ভ্যালেরিয়া।

বিবিসির প্রতিবেদক তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ভ্যালেরিয়া বলেন, ‘কোনো অর্থবহন করে এমন কিছু বলা এখন আমার জন্য অসম্ভব।’ নিজের বাড়ির মেঝেতে বসে ছিলেন তিনি। পুরো বাসাটা কেমন অন্ধকার। করিডরে একটি আলমারি ঠাসা বই। একটু লক্ষ করলেই চোখে পড়ে আর্নেস্ট হ্যামিংওয়ে, বার্নার্ড শয়ের বই। দেয়ালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অবদান রাখার একটি সনদপত্র ঝুলছে। তবে কোথাও কোনো পারিবারিক ছবি নেই।

শান্ত স্মিত কণ্ঠে ভ্যালেরিয়া প্রতিবেদককে বলেন, ‘ইউসুফ আমাকে বলেছিল, “চলো মা, সিরিয়া চলে যাই। এখানে আমরা সঠিক ইসলামের পথে থাকতে পারব না।” আমি বলেছিলাম, তুমি পাগল হয়েছ। আমার কোনো আগ্রহ নেই তোমার সঙ্গে বা আর কারও সঙ্গে সিরিয়া যাওয়ার। আমি এখানেই ভালো আছি।’

২০১৬ সালে ছেলের পরিবর্তন নজরে আসে ভ্যালেরিয়ার। ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে তুরস্ক হয়ে সিরিয়া যেতে চেয়েছিলেন ইউসুফ। ইতালির বলোনিয়া বিমানবন্দরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইতালির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এবং মরক্কোর কর্তৃপক্ষকে ইউসুফ সম্পর্কে জানানো হয়। তিনি যে খুবই বিপজ্জনক তা-ও জানানো হয়। এরপরও ২২ বছরের ইউসুফের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় না।

এ ঘটনার পর ছেলেকে সাবধান হতে বলেন ভ্যালেরিয়া। কিন্তু ইন্টারনেট ও বন্ধুবান্ধবই ইউসুফকে বদলে দিয়েছিল। একসময় কাজের উদ্দেশে লন্ডনে চলে যান তিনি। সেখানে একটি ইসলামিক নিউজ চ্যানেলে কাজ নিয়েছেন বলে মাকে জানান। তবে তাঁকে সব সময় খুব বিষাদগ্রস্ত মনে হতো ভ্যালেরিয়ার। যেসব ছবি তিনি মাকে পাঠাতেন, সবগুলোতে খুব চিন্তিত ও গম্ভীর দেখাত তাঁকে।

হামলা করার দুদিন আগে ইউসুফের সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভ্যালেরিয়ার। খুব ভালো ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলেন তাঁরা। দুদিন পর হামলার খবর পেয়ে ছেলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন ভ্যালেরিয়া। ছেলের বন্ধুদের ফোন করে খোঁজ নিতে বলেন। পরে পুলিশ এসে তাঁকে জানায়, তাঁর ছেলেই একজন হামলাকারী, গুলিতে নিহত হয়েছেন।

গত শনিবার রাত ১০টার পর ব্যস্ত লন্ডন ব্রিজ এলাকায় গাড়িচাপা দিয়ে এবং এর অদূরে একটি মার্কেটে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় তিনজন। এতে ৭ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হন। পরে তিন হামলাকারীই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। ওই হামলাকারীদের একজন ইউসুফ জাগবা।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com