বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনে উজির মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগ এনে দুই পুলিশ কর্মকর্তার নামে আদালতে মামলার আবেদন জমা পড়েছে।
আজ সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর খায়রুল কবির রুমেন।
তিনি জানান, জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উজির মিয়ার ছোট ভাই ডালিম মিয়া মামলার আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে বিকেলে আদেশ দেবেন বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান শিকদার।
আবেদনে শান্তিগঞ্জ থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন ও পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশিষ সূত্রধরকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদি ডালিম মিয়া বলেন, মাত্র আবেদন করেছি। মামলা দায়ের হয়ে গেলে আপনাদের দ্রুত মামলার কপি দেয়ার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নিহত উজির মিয়ার স্বজনরা পুলিশের নির্যাতনে উজির মিয়ার মৃত্যুর অভিযোগে করে ৪ ঘন্টা ব্যাপী পাগলা বাজারে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
গত বুধবার ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে একটি গরু চুরির মামলার সন্দেহ জনক আসামি হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে নিহত উজির মিয়াকে গ্রেফতার করে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জামিন পেয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। ২১ ফেব্রুয়ারি উজির মিয়া নিজ বাড়িতে অসুস্থতা আরও বাড়লে স্থানীয় কৈতক হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) উজির মিয়াকে নির্যাতনের অভিযোগে শান্তিগঞ্জ থানার এস আই দেবাশীষ সুত্রধরকে ক্লোজড করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
প্রসঙ্গত, উজির মিয়াকে ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেপ্তারের সময় সাবইন্সপেক্টর দেবাশীষ সুত্রধর ও তখন কার দায়িত্ব প্রাপ্ত (ওসি) আলাউদ্দিন
এসআই পার্ডন কুমার সিংহ ও এএসআই আক্তারুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এই পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উজির মিয়াকে মারধরের অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার। গ্রেপ্তারের সময় এসআই দেবাশীষ উজির মিয়ার মাথায় আঘাত করেছেন বলেও অভিযোগ আনা হয়েছ।