1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

বদলে যাওয়া থানা

  • Update Time : শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৯৩৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::

প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্যের দ্বন্দ্বে এক পক্ষ আরেক পক্ষ কে ঘায়েল করে মামলা মোকদ্দমা দায়ের নিত্য ঘটনা ছিল। এসব ঘটনায় বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের পাশাপাশি শারীরিক মানসিক কষ্টে ভুগতে হতো বাদী বিবাদীকে। গত এক বছরে এ পরিস্থিতি বদলে গেছে। থানায় কমে গেছে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নিয়ে মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা। এমন বদলে যাওয়ায় উপজেলাবাসী খুশি।
বদলে যাওয়ার সূচনা : ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি জগন্নাথপুর থানায় যোগদান করেন ওসি মিজানুর রহমান। এরপর থেকে থানায় বন্ধ হয়ে যায় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নিয়ে মিথ্যা হয়রানিমুলক মামলা। থানায় আসা অভিযোগগুলো আপোষে সমাধানের উদ্যাগ নিয়ে সমাধানের চেষ্টা চালান। আর উপজেলাব্যাপী পুলিশ ও জনগণের সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করতে চালান প্রচারণা। ছুটে যান স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, হাট বাজারে। সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলে বাল্য বিবাহ, ইভটিজিং, সাম্প্রদায়িকতা সর্বোপরি আইনশৃঙ্খলা অবনতি হয় এমন ঘটনার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালান। এতে করে লোকজন এসব বিষয়ে পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করে।
যেসব পরিবর্তন এসেছে : শুরুতে জগন্নাথপুর পৌরসভা ও উপজেলা সদর বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে জগন্নাথপুর পৌরসভাকে সিসি টিভি ফুটেজের আওতায় আনা হয়। এতে করে পৌর এলাকার চুরি ছিনতাই সহ ছোটখাটো অপরাধ কমে গেছে বলে মনে করেন বাজার ব্যবসায়ি কমিটির নেতৃবৃন্দ। জগন্নাথপুর বাজার তদারক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন বলেন, পৌর শহর কে সিসি টিভি ফুটেজের আওতায় আনায় অনেক অপরাধ কমে গেছে। পাশাপাশি চুরি ছিনতাইয়ের মতো ছোটখাটো অপরাধ সনাক্ত করা সহজে সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশের এমন উদ্যাগে সুফল পাচ্ছে জনগণ। বিশেষ করে জগন্নাথপুর থানায় আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নিয়ে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা কমে গেছে। থানার পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক বছরে আপোষে সমাধান করা হয়েছে ১০৩ মামলা। আর মামলা হয়েছে ১০০ টি। ২০১৭ সাল থেকে গত ৫ বছরের থানায় দায়েরকৃত মামলায় পরিসংখ্যান অনুযায়ী গড়ে প্রতি বছর ২০০ ওপরে মামলা দায়ের হয়েছে।

উপজেলার জামালপুর গ্রামের আতাউর রহমান জানান, আধিপত্যের দ্বন্দ্ব নিয়ে তাদের মধ্যে ৯ টি মামলা চলছিল। গত ৫ বছর ধরে এসব মামলা মোকদ্দমা চালাতে গিয়ে আদালতে ঘুরে ঘুরে লাখ লাখ টাকা খরচের পাশাপাশি শারীরিক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছিলাম আমরা উভয়পক্ষ। ওসির উদ্যাগে আপোষে সম্মানজনকভাবে সমাধান হওয়ায় আমরা খুশি।
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, আমরা ইউনিয়নের কবিরপুর গ্রামের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা মামলা না নিয়ে ওসি আমাদেরকে নিয়ে আপোষে সমাধান করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর আপোষ নিস্পত্তির কৌশলে লোকজন সন্তোষ্ট হওয়ায় মামলা মোকদ্দমা কমছে।
থানায় একদিন : সম্প্রতি জগন্নাথপুর থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা ভবনের সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা সচেতনতামূলক কথা লেখা রয়েছে। তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পুলিশ সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা, পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অঙ্গীকার। থানার সামনে উপ পরিদর্শকরা চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে লোকজনের অভিযোগ শুনছেন। পরে ওসির কক্ষে গিয়ে এসব অভিযোগের সুরাহা করছেন।
থানায় কথা হয় জগন্নাথপুর উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব খান এর সঙ্গে। তিনি বলেন, ওসির আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের এলাকার অনেক বিরোধ আপোষে সমাধান হয়েছে। আমি নিজেও তাঁর পরামর্শে এসব আপোষ প্রক্রিয়ায় কাজ করছি।
উপজেলা নাগরিক ফোরাম আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, জগন্নাথপুর থানায় অনেক বড় ধরনের ঘটনা ও মামলা আপোষে নিস্পত্তি নিঃসন্দেহে হয়েছে। সামাজিকভাবে উভয়পক্ষ কে বুঝিয়ে আধিপত্য বিস্তার, জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ , পারিবারিক বিরোধ, সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তাঁর কার্যক্রমে আমরা মুগ্ধ।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু এটা প্রমাণের জন্য আন্তরিকতা দিয়ে অপরাধ নিমূলের পাশাপাশি আপোষ নিস্পত্তিযোগ্য মামলাগুলো নিস্পত্তিতে কাজ করি। জগন্নাথপুরের মানুষ আন্তরিকতা দিয়ে সহযোগিতা করায় এক বছরে ১০৩ মামলা আপোষ নিস্পত্তি করতে পেরে ভালো লাগছে। তিনি বলেন, জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহ্সান শাহ্ ও সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল সুভাশীষ ধর স্যারদ্বয়ের অনুপ্রেরনা ও পরামর্শে নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করে এসব কাজ করতে পারছি।
সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর সার্কেল শুভাশীষ ধর বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ওসি আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তাঁর কার্যক্রম প্রশংসনীয়।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com