1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের নির্যাতনে জগন্নাথপুরের যুবকের মৃত্যু, ঈদের আনন্দ হলো বিষাদের

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন, ২০২৩
  • ২৫৮ Time View

স্টাফ রিপোর্টার;:

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের নির্যাতনে  মৃত্যুর শিকার

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের যুবক সাহেদ আলীর মরদেহ   চার মাস পর গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। পবিত্র ঈদুল আজহার আগের রাত বুধবার সাড়ে ১২ টায় তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়ী উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের বনগাঁওয়ে   এলে পরিবারের লোকজনের বুক ফাঁটা কান্নায় ভারি হয়ে উঠে বাতাস।

বাড়ি জুড়ে শুরু হয় কান্নার রোল। এসময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। খবর পেয়ে গ্রামের শতাধিক লোক জড়ো হন নির্যাতনে মৃত্যুবরণকারী সাহেদ আলীকে শেষ দেখতে। রাতেই জানাযা শেষে গ্রামের পঞ্চায়েত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের পাড়ারগাঁও গ্রামের দালাল শাহীনের মাধ্যমে বনগাঁও গ্রামের কৃষক মৃত তবারক আলী ও গৃহিনী হাজেরা বিবি দম্পতির ছোট ছেলে সাহাদ আলী ২০২২ সালের ২১ মে চার লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া যায় । সেখানে পরিচয় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দালাল সাদ্দাম ও সাইফুলের সঙ্গে। গত বছরের নভেম্বর মাসে সাদ্দাম ও সাইফুল তাকে মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেন । তখন মাফিয়া চক্র তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপন চায়। ২৫ ফেব্রুয়ারি মাফিয়া চক্রের এক সদস্য ফোন করে পরিবারের নিকট সাহাদ আলীর মৃত্যুর খবর জানায়।
সাহাদ আলীর বোন সেবিকা বেগম জানান, মুক্তিপনের টাকার জন্য আমার ভাই কে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। দিনের পর দিন অনাহারে রাখা হয়। আমরা দালাল সাদ্দামের মাধ্যমে মাফিয়া চক্রের সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও ভাইয়ের জীবন বাঁচাতে পারিনি। পরে স্হানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় লিবিয়ার ত্রিপলিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদন করে ভাইয়ের লাশ দেশে আনি। চার মাস পর বুধবার আমি ঢাকায় লাশ গ্রহণ করি। এবং বাড়িতে নিয়ে এসে সবাইকে নিয়ে দাফনকাজ শেষ করি।
সাহাদ আলীর ভাই সৈয়দ আলী জানান,দালাল সাদ্দাম দেশে ব্যাংকে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে টাকা নিয়েছে। টাকা নিয়েও আমার ভাই কে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।
সাহাদ আলীর মা হাজেরা বিবি লাশ বাড়িতে আসার পর বার বার মুর্চা যাচ্ছিলেন আর কেঁদে কেঁদে বলছিলেন ‘আমার ছেলের মৃত্যু দেখার আগে কেন আমি মরলাম না’ আমার বুক যারা খালি করছে তাদের বিচার চাই।
বনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা তরুণ সমাজকর্মী ইমাদ উদ্দিন আকাশ জানান,পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে শেষ সম্বল জায়গা জমি বিক্রি করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যেতে চেয়েছিল সাহাদ আলী । দুভাগ্যজনক মর্মান্তিক মৃত্যুতে হতদরিদ্র পরিবারটি নিঃশেষ হয়ে গেছে। আমরা দেড়লাখ টাকা চাঁদা তুলে মাফিয়া চক্রের কাছে পাঠিয়ে ছেলেটিকে বাঁচাতে পারলাম না। এমন পরিণতি যেন আর কারো না নয় রাষ্ট্রের কাছে এটা আমাদের কাম্য।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মিজানুর রহমান বলেন,ঘটনার পর থেকে সার্বক্ষণিক পরিবারটির পাশে থেকে সান্তনা ও সহায়তার চেষ্টা করছি। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে আমরা আইনানুগ পদক্ষেপ নেব।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com