জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়লাভের পর পাকিস্তানি শাসকেরা যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে নিপীড়ন-নির্যাতনের আশ্রয় নেয়, তখনই অসহযোগ আন্দোলনের এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা করেন: এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও গত ৫০ বছরের অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।
আগামীর বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের সকল নাগরিককে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেছেন, “সুবর্ণজয়ন্তীর এই শুভক্ষণে আমাদের শপথ নিতে হবে, কেউ যেন বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে। দেশের গণতান্ত্রিক এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।
“আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত-সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান আসে।
দীর্ঘ সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৭১ সালে উদিত হয়েছিল বাঙালির স্বাধীনতার সূর্য। সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে শুক্রবার।
আর যার হাত ধরে স্বাধীনতা এসেছিল, সেই মহান নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন চলছে গতবছরের মার্চ থেকে। এবারের মার্চে তা মিলছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর উদযাপনের সঙ্গে।
বাংলাদেশ এমন এক সময়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছে, যখন মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ সরকারে রয়েছে এবং সরকার প্রধান জাতির পিতারই জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি। তবে এই উদযাপন যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা-সর্বস্ব না হয়। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে আমাদের দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার নতুন করে শপথ নিতে হবে।”
সবাইকে শুভেচ্ছা
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতেই সবাইকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, “২৬ মার্চ আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। এবার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে। আমরা উদযাপন করছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একইসঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি – তিনি আমাদের এই সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের তৌফিক দান করেছেন।
এই শুভদিন উপলক্ষে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আমি দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে বসবাসকারী বাংলাদেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আমি কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি সেইসব বন্ধু রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিকে, যারা আমাদের চরম দুঃসময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।”
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে একাত্তরের ২৫ মার্চের কালরাতের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। শ্রদ্ধা জানার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সালাম জানান।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকদের হাতে নির্মমভাবে নিহত নিজের পরিবারের সদস্যদের কথাও গভীর বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং সেই ঘোষণার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দীর্ঘ ২৪ বছরের নিরন্তর রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল, আর এই সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
“বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নামের মহাপুরুষের জন্ম হয়েছিল বলেই আজ আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক, তার জন্ম হয়েছিল বলেই আজ আমরা নিজস্ব দেশ, ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব বোধ করি।
“শেখ মুজিব একটি দেশ, একটি জাতি-রাষ্ট্রের স্রষ্টা বলে জাতি তার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একযোগে উদযাপন করছে।”
জাতীয় জীবনের দুই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপনের সময় স্বাধীনতাযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোয় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন বাঙালির মুক্তির মহানায়ক শেখ মুজিব। তার হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় বাংলাদেশ। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মের শত বছর পূর্ণ হয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক হওয়ার ঠিক আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে যেমন স্তব্ধ করে দেওয়া হয়, তেমনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।
তিনি বলেন, “জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসেছে, তারা দীর্ঘ একুশ বছর এদেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে, জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করে তাদের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছে, বাংলাদেশকে ভিক্ষুকের দেশ হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত করেছে।”
স্বাধীনতার অর্ধশত বছর অতিক্রম করার এই মুহূর্তকে জাতীয় জীবনে ‘একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
Leave a Reply