1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

নতুন বর্ষ নতুন দিন স্বপ্ন হোক অমলিন।

  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৮৯ Time View

নতুন বর্ষ নতুন দিন
স্বপ্ন হোক অমলিন।
স্বাগতম-২০২৫ খ্রিস্টাব্দ। জীবন যাপনের পরিক্রমার ধারাবাহিকতার হাত ধরে দিন বদলের নিয়মতান্ত্রিকতায় ৩৬৪দিন পরই আসে একটা করে নববর্ষ। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সমাজে, বিভিন্ন সময়ে আসে নববর্ষ। যেমন বাংলা নববর্ষ, হিজরি নববর্ষ, ইংরেজি নববর্ষ ইত্যাদি। আজ ১লা জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন।
ইংরেজি নববর্ষ যা সাধারণত ১জানুয়ারি উদযাপিত হয়, মূলত খ্রিস্টান ও ইউরোপীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভুত একটি ঐতিহ্য। বাংলায় ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস মূলত ঔপনিবেশিক শাসনামলে শুরু হয়।
১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা ভারতবর্ষে তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। এর সঙ্গে পশ্চিমা সংস্কৃতি এবং ক্যালেন্ডারের প্রচলন ঘটে। ব্রিটিশ প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে নববর্ষ উদযাপনের রেওয়াজ বাংলায় চালু হয়।
তবে বর্তমানে আমরা যে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করছি তা খুব পুরনো নয়। আজ থেকে ৪৪২ বছর পূর্বে অর্থাৎ ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দ থেকে সর্বজনীনভাবে ১লা জানুয়ারি ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন শুরু হয় গ্রোগোরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে।
তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে ১লা জানুয়ারি নববর্ষ পালন শুরু হয় সম্রাট জুলিয়াস সিজারের আমল থেকে। খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ অব্দে সম্রাট জুলিয়াস সিজার একটি নতুন বর্ষ পঞ্জিকা প্রচলন ঘটান। রোমানদের আগের বর্ষপঞ্জি ছিল চন্দ্র বর্ষের। সম্রাট জুলিয়াসের বর্ষপঞ্জি ছিল সৌর বর্ষের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, প্রাচীন কালে মানুষ যখন বর্ষ গননা করতে শিখলো তারা বছর হিসাবে করত চাঁদের কথা মাথায় রেখে। পূর্ণিমা, অমাবস্যা ইত্যাদি বিচার করে বছর গণনা করা হতো।
এরপর মিশরীয়রা প্রথম সূর্য দেখে বছর হিসাব শুরু করে যাকে বলে সৌরবর্ষ। তবে বর্ষ পঞ্জিকা বা ক্যালেন্ডার প্রথম আবিষ্কার করে সুমেরীয়রা।
তারপর বর্ষ পঞ্জিকাকে আরো উন্নত করে গ্রিক ও রোমানরা। গ্রিকদের কাছ থেকে পেয়েছিল রোমানরা। কিন্তু তাদের বছর ছিল দশ মাসের। শীতের দুই মাস বাদ দিয়ে ৩০৪ দিনে বছর হিসাব করত রোমানরা। ১লা মার্চ উদযাপন করত নববর্ষ। পরবর্তীতে রোমের সম্রাট নুমা জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস দুটোকে ক্যালেন্ডারে যুক্ত করেন।
তিনি আবার মারসিডানাস নামে আরো একটি নতুন মাস যুক্ত করেন।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি ১লা জানুয়ারি নববর্ষ পালন শুরু করেন জুলিয়াস সিজার। তিনি মূলত মিশরীয়দের পঞ্জিকা অনুসরণ ও সংশোধন করেন। জ্যোতিবির্দিদের সাথে আলোচনা করে সে বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মাঝে ৬৭ দিন ও ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩দিন যুক্ত করে ক্যালেন্ডার সংস্কার করেন। এই ক্যালেন্ডার জুলিয়ান ক্যালেন্ডার নামে পরিচিত।
এই ক্যালেন্ডারে মার্চ,মে, কুইন্টিলিসি ও অক্টোবর মাসের দিন সংখ্যা ৩১ এবং জানুয়ারি ও সেক্সটিনিস মাসের সঙ্গে ২ দিন যুক্ত করে ৩১দিন করা হয়। ফেব্রুয়ারি মাস গণনা হতে থাকে ২৮ দিনেই। ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতি চার বছর পরপর যুক্ত করা হয় ১ দিন। এভাবে আসে লিপইয়ার।
রোমানদের দরজা বা ফটকের দেবতা ছিলেন জানুস। তার নামের সাথে মিলিয়ে জানুয়ারি মাসের নাম হওয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নতুন বছরের দরজা হওয়া উচিত জানুয়ারি। সে জন্যই জানুয়ারির ১ তারিখ নববর্ষ পালন শুরু হয়।
পরবর্তীতে জুলিয়াস সিজারের নাম অনুসারে প্রাচীন কুন্টিলিস মাসের নাম পাল্টে রাখা হয় জুলাই এবং আরেক বিখ্যাত রোমান সম্রাট অগাস্টাসের নামানুসারে সেক্সটিনিস মাসের নাম হয় আগস্ট।
অন্যদিকে খ্রিস্ট ধর্মের ব্যাপক প্রসারের মধ্য দিয়ে ইউরোপে মধ্যযুগে আবারো ২৫শে মার্চকে নববর্ষ পালন শুরু করে। শুধু ২৫শে মার্চ নয়, ২৫শে ডিসেম্বর, ১লা মার্চ এবং ইস্টার্ন সানডেতেও কোথাও কোথাও নববর্ষ পালিত হতো। অর্থাৎ নববর্ষ উদযাপনের দিন তারিখ আবারও তার সার্বজনীনতা হারালো।
যিশুখ্রিষ্টের জন্ম বছর থেকে গণনা করে ডাইওনিসিয়াস এক্সিগুয়াস নামক এক খ্রিস্টান পাদ্রি ৫৩২ অব্দ থেকে শুরু করেন খ্রিস্টাব্দ গণনা।পরবর্তীতে রোমের পোপ ত্রয়োদশ গ্রেগরি জোতির্বিদের সাথে পরামর্শ করে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার সংশোধন করেন।
এরপর ১৫৮২ খ্রীস্টাব্দে অক্টোবর মাসে দেয়া হয় ১০ দিন। পরে পোপ গ্রেগরি ঘোষণা করেন, যে সব শতবর্ষীয় অব্দ ৪০০ দিয়ে বিভক্ত হবে সে সব বর্ষ লিপইয়ার হিসাবে গণ্য হবে। এভাবেই আসে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার। এটাই খ্রিস্টাব্দ।
অন্ত পর ১৫৮২ সালেই গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ১লা জানুয়ারি বিশ্বব্যাপী ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন বানানো হয়। যা আজ বিশ্বব্যাপী নববর্ষের প্রথম দিন হিসাবে উদযাপিত হয়। মোটাদাগে এটাই ইংরেজি নববর্ষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
মনোরঞ্জন তালুকদার
প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com