জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আলোচিত স্বামী-স্ত্রী ও নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য পাওয়ার কথা বলছে সংস্থাটি। হত্যাকাণ্ডের দিন নিহত আলমগীর কবিরই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে। পরে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে আলমগীর ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাজমা খাতুনকে হত্যা করেন ওই ব্যক্তি। একই সঙ্গে সদ্য ভূমিষ্ট শিশুরও মৃত্যু হয়।
সম্পূর্ণ ক্লুলেস হিসেবে শুরু হওয়া এ ঘটনায় পিবিআই তদন্তের মাধ্যমে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডের আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকা জেলা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বাপ্পী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পিবিআই তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাজমা খাতুনের সঙ্গে এক ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। গত ১ সেপ্টেম্বর কারখানা ছুটির পর পোশাককর্মী নাজমা খাতুন ও তার স্বামী পান সিগারেট বিক্রেতা আলমগীর কবির বাসায় ফেরেন।
ধারণা করা হচ্ছে, আলমগীর কবির ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে আনেন। তাকে মারধর ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই ডেকে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। পরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। একপর্যায়ে আলমগীর ও সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাজমাকে হত্যা করা হয়। এ সময় নাজমার প্রসব হয়ে যায় এবং নবজাতকটিও মারা যায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মরদেহ তিনটি রেখে বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আশুলিয়ার জামগড়ার চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক অনুসন্ধানে পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহত আলমগীর কবিরই ওই ব্যক্তিকে বাসায় ডেকে এনেছিলেন বলে জানা গেছে।
নাজমা স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন এবং আলমগীর পান সিগারেট বিক্রি করতেন। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে কক্ষের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহত নাজমার বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে পিবিআই জিজ্ঞাবাদ করছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পিবিআইয়ের ওই তদন্তকারী দল। সূত্র-সমকাল