বিশেষ প্রতিনিধি:;
জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর (জগন্নাথপুর-সিলেট) সড়কে অবর্ণনীয় জনদুর্ভোগ বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন থাকা
এই সড়কে বেহালদশা বিরাজ করছে। এরমধ্যে মেঘ-বৃষ্টির মৌসুমে সড়কে কাজ শুরু করায় বৃষ্টির পানি আর কাদার কারণে সড়কে চলা দায় হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সংস্কার কাজেও বিঘ্নিত হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিভাগীয় সিলেট শহরের সঙ্গে জগন্নাথপুরবাসীর যোগাযোগের একমাত্র প্রধান সড়ক জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের জগন্নাথপুর পৌরএলাকার বটেরতল, হামজা কমিউনিটি সেন্টার, হবিবপুর, ভবেরবাজার, ইসহাসপুর, মিরপুর, মেঘারকালি, কেউনবাড়ী এলাকাসহ সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দে ভরপুর। ফলে যানচলাচল অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। বড়, বড় গর্তে বৃষ্টির পানি জমে একাকার হয়ে গেছে। পরির্দশনকানে দেখা গেছে, সড়কের পৌরএলাকার ছিক্কা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কিছু শ্রমিক সড়কে কাজ করছেন। তবে ওই সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ছাত্রনেতা তোফাজ্জল হক সুমন বলেন, সংস্কারের অভাবে সড়কে যানবাহন চলাচলে অনুপযোগি হয়ে উঠেছে। সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ৬ মাস আগে টেন্ডার সম্পন্ন হলেও যথাসময়ে কাজ শুরু হয়নি।
এখন বৃষ্টির এই সময়ে কাজ শুরু করায় অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েছি আমরা।
সুলতান মিয়া নামে এক অটোরিকশা চালক জানান, খুবই ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর ভাঙাচোরা থাকায় অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। তিনি
সড়কে ধীর গতিতে কাজ চলছে বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি ও এলাকাবাসী জানায়, সিলেট বিভাগীয় শহরসহ ঢাকার রাজধানীর সঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহালদশা বিরাজ করে আসছে। গত বছরের শেষের দিকে জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহবান করা হলে কাজটি পায় মাদারীপুরেরর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হামীম সালেহ (জেভি)। চুক্তি অনুয়ায়ী গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১০ তারিখ থেকে সড়কে কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মার্চের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়। দেশে করোনাভাইরাসের প্রার্দুভার দেখা দিলে বন্ধ হয়ে যায় কাজ। সম্প্রতি আবার কাজ শুরু হয়েছে। তবে কাজ ধীর গতিতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ কাজ শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার খোকন মিয়া বলেন, আমরা ফেব্রুয়ারী মাসের দিকে কাজের কার্যাদেশ পেয়েই আমরা কাজ শুরু করা হয় সড়কে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে কাজে বিঘ্নিত ঘটেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম সারোয়ার বলেন, এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক আইডিএ এর অর্থায়নে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের ১৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২৫ কোটি ৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
চুক্তি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি কাজ। সংস্কার কাজ সমাপ্ত
হয়ে গেলে জনভোগান্তি আর থাকবে না।
Leave a Reply