আস্থাভাজন সংস্কৃতি রাজনৈতিক দলের জন্য অশনি সংকেত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে—শীর্ষ নেতার আস্থাভাজন হয়ে ওঠা এবং সেই আস্থাকে পুঁজি করে সংগঠনে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। যোগ্যতা, ত্যাগ ও নীতির পরিবর্তে কেবল “আস্থাভাজন” পরিচয় যখন অগ্রাধিকার পায়, তখন দলীয় গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঐক্য ভাঙনের পথে যায়।আস্থাভাজন গোষ্ঠী ধীরে ধীরে নিজেদের বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত মনে করে। তারা দলের সংবিধান ও নীতি উপেক্ষা করে শীর্ষ নেতার নামে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়। ফলে সাধারণ নেতাকর্মীরা মনে করেন, এই গোষ্ঠী যেন শীর্ষ নেতার আশীর্বাদপ্রাপ্ত—যাদের বিরুদ্ধে কিছু বলা বা করা যায় না। এতে হতাশা বাড়ে, মেধা ও ত্যাগ উপেক্ষিত হয়, আর দল ক্রমে ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।
এ প্রবণতার ফলে তিনটি বড় ক্ষতি হয়:
১. দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা নষ্ট হয়।
২. ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত থাকে।
৩. দলের ঐক্য ও শক্তি ভেঙে পড়ে।
এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন—দলের সংবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ, নেতৃত্ব নির্বাচনে যোগ্যতা ও ত্যাগকে প্রাধান্য, এবং ভিন্নমতের জন্য সহনশীল পরিবেশ। অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দলই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে পারে না।
সর্বোপরি, আস্থাভাজন সংস্কৃতি পরিহার করে নীতি, আদর্শ ও যোগ্যতাভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলতে না পারলে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অস্তিত্বকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে। (লেখক- এম এ কাদির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদল।)