1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার

কালো জাদুর প্রভাব ও পরিত্রাণের উপায়

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫
  • ২৫ Time View

কালো জাদু হলো এক ধরনের প্রাচীন তন্ত্রমন্ত্র বা অপতান্ত্রিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে অশুভ শক্তিকে আহবান করে জীবজগতের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করা হয়। এটি এমন একটি ঘৃণিত কাজ, যা ব্যক্তির নৈতিকতা, বিশ্বাস ও মানবিকতাকে ভেঙে দেয়। সাধারণত হিংস্র উদ্দেশ্যে, কারো ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে বা নিজ স্বার্থে এই জাদু প্রয়োগ করা হয়।

জাদুটোনা এগুলো নতুন কিছু নয়, বরং যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একশ্রেণির নিকৃষ্ট লোক এর সঙ্গে জড়িত ছিল এবং আছে।

সুলাইমান (আ.)-এর যুগে জাদুবিদ্যার প্রচলন ছিল। তবে তিনি জাদুকর ছিলেন না। তাঁর মৃত্যুর পর কিছু শয়তান জাদুর বই মাটির নিচে লুকিয়ে রেখে মানুষের নিকট গুজব ছড়িয়ে দেয় যে এই বইগুলো সুলাইমান আলাইহিসসালামের শক্তির উৎস। সাধারণ মানুষ তখন বইগুলো বের করে এবং এগুলো শিখে এই নিকৃষ্ট কাজে জড়িয়ে যায়।
কিছু মানুষ জিন ও শয়তানের মাধ্যমে কিছু অলৌকিক বা ভেলকি দেখাতো। তা দেখে অন্যরাও আকৃষ্ট ও অভিভূত হয়ে যেত।
কালো জাদুর প্রভাব ও পরিণতি

এই জাদুর প্রভাবে সুস্থ-সবল মানুষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে, চিকিৎসায় কোনো ফল না-ও আসতে পারে, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনকি এটি একটি পরিবার বা একটি চাকরি, ব্যবসা বা সামাজিক সম্পর্ক ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।

বাড়তে পারে শত্রুতা, ঘটতে পারে অস্বাভাবিক আচরণ বা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো, কাউকে অসুস্থ বা উন্মাদ করে তোলা, ব্যবসা বা সৌভাগ্য বন্ধ করে দেওয়া, অন্যের প্রতি ঘৃণা বা ভালোবাসা জাগানো ছাড়াও আরো অস্বাভাবিক কিছু দেখা দেয় মানুষের আচরণে।
ইসলামে কালো জাদুর অবস্থান

ইসলাম ধর্মে কালো জাদু তথা ক্ষতিকর তন্ত্রমন্ত্র সম্পূর্ণরূপে হারাম এবং কুফরি কাজ হিসেবে চিহ্নিত। এই পাপ কাজে লিপ্ত ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে, তবে সে ইসলাম থেকে বহিষ্কৃত হয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তির জন্য অনুশোচনা ও তাওবা একান্ত প্রয়োজন নতুবা ইসলামী আইন অনুযায়ী কঠোর দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য সে।

নবী করিম (সা.) বলেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী জিনিস থেকে বেঁচে থাকো—১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, ২. জাদু করা, ৩. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, ৪. সুদ খাওয়া, ৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা, ৬. যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা, ৭. নিরপরাধ নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া।
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৬৪)

আধুনিক সময়ে কালো জাদুর বিস্তার

বর্তমানে অনেক আলেমের মতে, সমাজে কালো জাদুর ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এ থেকে মুক্ত থাকতে আমাদের কিছু নির্দিষ্ট আমল ও কোরআনি দোয়ার চর্চা করা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

জাদু থেকে রক্ষার করণীয় কিছু আমল

১. সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া।

(আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮২)

২. এই দোয়া পাঠ করা—‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুরু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিসসামা, ওয়াহুয়াস্ সামিউল আলীম।’

(মুসতাদরাক হাকেম, হাদিস : ১৯৩৮)

৩. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়া। (বুখারি, হাদিস : ২৩১১)

৪. ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে হাত বুলানো—দিনে তিনবার। (বুখারি, হাদিস : ৫০১৭)

৫. সকাল-সন্ধ্যায় দোয়া পড়া—‘আল্লাহুম্মা ‘আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাম’ই, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯০)

৬. ‘আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক’ পাঠ করা।

(মুসলিম, হাদিস : ২৭০৯)

নবী করিম (সা.)-এর ওপর জাদু ও তাঁর ঝাড়ফুঁকের দোয়াটি পাঠ করা। প্রিয় নবী (সা.)-এর ওপরও একবার কালো জাদু প্রয়োগ করা হয়েছিল। তখন ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) তাঁকে নিম্নোক্ত দোয়াটি শিখিয়েছিলেন :

‘বিসমিল্লাহি আরকিকা। মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা। ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিক। বিসমিল্লাহি আরকিক।’

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২১৮৬)

সুরা ফাতিহা ‘সুরা শিফা’ নামে পরিচিত। এটি আরোগ্যের জন্য উপযোগী।

জাদু, কুফরি ও শয়তানের ফাঁদ থেকে বাঁচতে হলে ঈমান ও পবিত্রতার সঙ্গে থাকতে হবে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

সৌজন্যে কালের কণ্ঠ

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com