জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে ২০২১-২২ সালের বাজেট পাশ হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় বলেছেন বাজেটে আমাদের মতামতের প্রতিফল নেই। বরংচ কালো টাকাকে সাদা করার সুযোগ দিয়ে উল্টো কাজ করেছেন অর্থমন্ত্রী।
গতকাল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট পাশ হয়। যা জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে ঘাটতি দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ এবারও বড় ঘাটতির বাজেট।২০২০-২১ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ১ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫০তম বাজেট এটি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেট এটি। এতে সবচেয়ে বেশি ব্যায় ধরা হয়েছে জনপ্রশাসানে। ভর্তুকি, প্রণোদনা,পেনশনসহ মোট পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের ১৮.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এখাতে। বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ৮৫ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। যদিও আনুপাতিক হারে এটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জনপ্রশাসনে মোট বাজেটের ১৯.৯ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাত। এ খাতে মোট বাজেটের ১৫.৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। আনুপাতিক হারে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মূলবাজেটে মোট বরাদ্দের ১৫.১ শতাংশ দেওয়া হয় শিক্ষা ও প্রযুক্তিখাতে। বাজেটে সরকার যে বাড়তি ব্যায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে, তার সিংহভাগই ব্যয় হবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব মোকাবিলায়। এর অংশ হিসাবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত সংকট মোকাবিলায় আগামী অর্থবছরেরও ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আবার করোনাভাইরাসের কারনেই সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতা বাড়িয়েছে সরকার। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট এক লাখ সাত হাজার ৬১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এ বাজেটে, যা মোট বাজেটের ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক ১১ শতাংশ। যেখানে চলতি২০২০-২১ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে এ বাজেটে। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের জনসংখ্যারর একটি বড় অংশ কর দেওয়ায় সামর্থ থাকলেও কর প্রদানকারীর সংখ্যা বর্তমানে মাত্র ২৫ লাখ ৪৩ হাজার। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এ বাজেটে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা করা হয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এরমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উৎস থেকে ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এনবিআর বহির্ভূত সূত্র থেকে রাজস্ব ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কর-বহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আহরিত হবে আরও ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ঘাটতি পূরণ অর্থায়নে বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ এক হাজার ২২৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
Leave a Reply