1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ, ক্ষোভে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল বাড়ি জগন্নাথপুরে লোডশেডিং, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অর্ধেকেরও কম গ্রাম থেকে জাতীয় মাঠে: দিরাইয়ের দুই কিশোরের রূপকথা অন্যায়ের প্রতিবাদে কল্যাণকামিতা জরুরি জগন্নাথপুরে নৌকাডুবিতে নিহত ৪ পরিবারের পাশে জামায়াত জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের মৃত্যু, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বিয়ের চার মাসের মাথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন জগন্নাথপুরের ছাত্রলীগ নেতা বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দীর্ঘ হবে: মির্জা ফখরুল

জগন্নাথপুরের অদম্য মেধাবী রোকেয়ার উচ্চ শিক্ষা কী থেমে যাবে ?

  • Update Time : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৫
  • ১০৬১ Time View

অমিত দেব/সুহেল হাসান:: ‘কলেজে ভর্তির দিনই বলেছিলাম, ভর্তি ফি লাগবে না, তবে কথা দিতে হবে জিপিএ-৫ পেতে হবে। মেয়েটি কথা দিয়েছিল তার বিশ্রাস মিশ্রিত হাসিতে। সে তাঁর কথা রেখেছে সেই হাস্যজ্জ্বল মুখের সংগ্রামি মেয়েটির নাম রোকেয়া বেগম । সে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া শাহজালাল মহাবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে এ+ পেয়ে উপজেলার ছয়টি কলেজের মধ্যে একমাত্র এ+প্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছে। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এম এ মতিন রোকেয়া সর্ম্পকে ফলাফল প্রকাশের পর এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সারা দেশে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী এ+ পেয়েছে। তন্মেধ্যে রোকেয়ারা কাহিনী কিছুটা ব্যতিক্রম্ খোঁজ নিয়ে এমন চিত্রই জানা গেল। দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করে নিজের সাফল্য ধরে রাখা রোকেয়া বাবার অবহেলা আর মায়ের সংগ্রাম ও স্বপ্নকে লালন করে শত প্রতিকূলতা জয় করে সফলতা এনেছে। এখনও শঙ্কা এসব প্রতিকূলতা দূর করে কীভাবে উচ্চ শিক্ষার পথে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামের মেয়ে রোকেয়া শৈশব থেকে মাতৃ¯স্নেহে বড় হয়েছে। চার ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট রোকেয়া বাবার আদর পায়নি। অভিমানী মা গত ১০ বছর ধরে ছেলে মেয়েদেরকে মানুষ করার ব্রত নিয়ে একাই সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে মাত্র ১৫০০টাকা বেতনে চাকুরী নেন তিনি। সেই সাথে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে টিউশনি করে যে টাকা মাসে আয় করেন। সেই টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা ও সংসার খরচ করেন। ছেলে মেয়েরাও মায়ের সেই সংগ্রামকে বুকে লালন করে দারিদ্রতাকে জয় করে পড়া লেখায় মত্ত। তাইতো রোকেয়া এসএসসি পরীক্ষায় জগদীশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পায়। তার আরেক বোন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে বিএ অন্যায়নরত। এসএসসিতে জিপিএ পাওয়ার পর রোকেয়া শাহাজালাল মহাবিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হয়। তার পারিবারিক অভাব অনটনের কথা জেনে অধ্যক্ষ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলেও রোকেয়ার সংগ্রাম শেষ হয়নি। তাকে প্রতিদিন চার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কলেজে আসতে হতো। যেখানে তার সহপাটিরা রিকশা কিংবা অটোরিকশা দিয়ে যাতায়াত করতেন। রোকেয়ার স্বজনরা জানান, অনেকদিন না খেয়ে কলেজে এসেছে রোকেয়া। সারাদিন আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে যাওয়া আসা ও বিকেলে বাড়িতে গিয়ে মাকে কিছু সহায়তা করার মধ্যেও সে তার পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। এযাত্রায় সে দারিদ্রতাকে জয় করে সফল হয়েছে। এখন দুশ্চিন্তা ভর করেছে কীভাবে উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যাবে। সামান্য বেতনে চাকুরী করা মায়ের পক্ষে কীভাবে সম্ভব সংসার চালিয়ে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার খরচ জোগানো। এচিন্তায় সাফল্যর হাসি মলিন হয়ে যায় রোকেয়াদের। শাহজালাল মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এম এ মতিন জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,স্বপ্ন বিলাসী মায়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে জীবনযুদ্ধে হার না মানা রোকেয়াদের উচ্চ শিক্ষা যাতে থেমে না যায় সেজন্য সমাজের বিবেকবানদের এগিয়ে আসা দরকার।
রোকেয়ার সংগ্রামী মা স্কুল শিক্ষিকা খায়রুন নেছা জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম কে জানান, মেয়েটি প্রতিদিন আট কিলোমিটর হেঁটে কলেজে যাতায়াত করেছে। অভাব অনটনের সংসারের কত না পাওয়ার বেদনাকে অন্তরে লালন করে পড়ালেখা করে সফলতা এনেছে। কীভাবে উচ্চ শিক্ষা করাব এচিন্তায় মেয়ের পাশাপাশি আমার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি মেয়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষানুরাগীদের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com