1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার

তিন সড়ক নিয়ে বছরজুড়ে অস্বস্তিতে ছিলেন জগন্নাথপুরবাসী

  • Update Time : সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১১৭৪ Time View

সংস্কারহীন জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কটি নিয়ে গেল বছরজুড়ে দুর্ভোগে ছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। সংস্কারের দাবীতে কয়েকবার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনায় ঝড় উঠে। সরকারি দলের নেতাকর্মীসহ জগন্নাথপুরের সর্বমহলের দাবি ছিল সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য। বছরের শেষ দিকে সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরে জগন্নাথপুরবাসীর মধ্যে। এছাড়াও জগন্নাথপুরের ভবেরবাজার-সৈয়দপুর-কাঠাইখাই-গোয়ালাবাজার সড়ক এবং জগন্নাথপুরের শিবগঞ্জ- বেগমপুর সড়কে চলাচলে সারাবছর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এলাকাবাসির।

 

এলজিইডি ও এলাকাবাসী জানান, সিলেট বিভাগীয় শহরসহ ঢাকার সঙ্গে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ও সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার কয়েকলাখ মানুষ জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়জুড়ে ভাঙাচোর, খানাখন্দ আর অসংখ্য গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে চরম ভোগান্তিতে ছিলেন মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই সড়কের বিভিন্ন গর্তে ভারী যানবাহন পড়ে আটকে ঘন্টার পর ঘন্টা যানজট সৃষ্টি হয়ে বিঘিœত হয়েছিল যান চলাচল।
২০১৭ সালে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ সড়কের জগন্নাথপুরের ১৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজটি পান সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূরা এন্টারপ্রাইজ। ওই প্রতিষ্ঠান কিছু কাজ করে বন্ধ করে দেয়। এরপর স্থানীয় এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে নামমাত্র কাজ করে অর্থ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তিন মাসের মাথায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন, গর্ত এবং খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। ওই বছরের মে মাসে সড়কে অস্থায়ী মেরামতের জন্য ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ কাজ পায় সুনামগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রেনু এন্টারপ্রাইজ। ঈদুল ফিতরের আগের দিন (৪ জুুন) সড়কের হামজা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে যৎসামান্য মেরামত করে কাজ বন্ধ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার বলে দাবী করেন যথাযথভাবে বরাদ্দকৃত টাকায় সড়কে কাজ হয়েছে। এদিকে বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই সড়কটি যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে উঠে।
গত ১৪ জুলাই অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক সংস্কারের দাবীতে অর্ধদিবস পরিবহন ধর্মঘট হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও এলজিইডির পক্ষ থেকে সংস্কারের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনের কর্মসূচী প্রত্যাহার করা হয়। প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী কাজ না হওয়ায় আবারও ১৭ সেপ্টেম্বর পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়। ২৩ অক্টোবর ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। টানা তিনদিন সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকার পর আবারও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
স্থানীয় প্রশাসন উপজেলা সদরের ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ১৩ লাখ টাকা সংগ্রহ করে সড়কে অস্থায়ী মেরামতের কাজ করে সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত ৫ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার অংশে উন্নত মানের সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ২৩ কোটি টাকার দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে বিশ্বনাথের ১৩ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ১৫ কোটি টাকার দরপত্র হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহেই জগন্নাথপুর-বিশ^নাথ সড়কে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

এছাড়াও জগন্নাথপুরের ভবেরবাজার-কাঠালখাই-গোয়ালাবাজার সড়কের ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৫ বছর আগে সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদার কাজ না করে আদালতে মামলা করেন। ২০১৮ সালে আইনি জটিলতার অবসান হলে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজধানী ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পদ্মা কনষ্ট্রাকশন কাজ শুরু করে। ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি এই কাজ শেষ করার কথা থাকলেও, গত চারমাস ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে সড়কে জনদুর্ভোগ কমেনি।
অপর দিকে জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের ১১ কিলোমিটার দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ২০১৭ সালে সংস্কারের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে, কাজটি যৌথভাবে পান ঠিকাদারী প্রতিষ্টান সোয়েব এবং লালা এন্টারপ্রাইজ। ৭ থেকে ৮ মাস কাজ করার পর বন্ধ হয়ে যায় সড়কের কাজ। ২০১৮ সালে এ সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সড়কটির কাজ ২০১৯ সালেও শেষ হয়নি।

 

জগন্নাথপুর উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার বলেন, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের সংস্কার কাজ নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের কাজ বর্ষা মৌসুমে বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হয়েছে। ভবেরবাজার-কাঠালখাই সড়কের কাজ বন্ধ রাখায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com