মো. মোশারফ হোসাইন, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরের নকলায় এবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে প্রান্তিক কৃষকদের ধান কেটে দেওয়া হলো। ৭ মে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব’র উদ্যোগে উপজেলার উরফা ইউনিয়নের উত্তর বারমাইশা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মো. ময়দান আলীর ৬০ শতক ও মো. শওকত আলীর ৪০ শতক জমির বোরো ধান কেটে দেওয়া হয়। সরকারি তরফ থেকে অর্ধেক ভর্তুকি মূল্যে পাওয়া ধুকুড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. মোখলেছুর রহমানের কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে এসব ধান কাটা হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উরফা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল হক হীরা, স্থানীয় ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) মো. ফারুক আহমেদ ও মনির হোসেন, উরফা ইউনিয়নের ইউপি সদস্যগণ, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শেরপুর জেলার প্রত্যেক উপজেলায় কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে গরীব ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বোরো ধান কেটে দেয়ার কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের প্রান্তিক দুই কৃষকরে মোট এক একর জমির বোরো ধান কেটে দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে ঘন্টায় এক একর জমির ধান কাটা মাড়াই, ঝাড়াই ও প্যাকেটজাত করা যায়। প্রতি একরে ১৪ লিটার থেকে ১৫ লিটার ডিজেল জ্বালানি হিসেবে ব্যয় হয়। হার্ভেস্টার দিয়ে দিনে ৮ একর থেকে ১০ একর জমির ধান কাটা, মাড়াই, ঝাড়াই ও প্যাকেটজাত করা সম্ভব। তিনি আরও জানান, এ যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত করা পর্যন্ত কৃষকদের খরচ বাঁচে প্রায় ৬০ ভাগ এবং শ্রম কম লাগে প্রায় ৭০ ভাগ। আর এর ট্যাংকিতে ১৫ মন ধান একসাথে রাখা যায়। কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে কম শ্রমিক দিয়ে একই সঙ্গে ধান কাটা, মাড়াই, পরিস্কার ও প্যাকেটজাত করা সম্ভব হওয়ায় আধুনিক এ কৃষি যন্ত্রের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
Leave a Reply