জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::
মাদারীপুরের শিবচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তাঁর ছেলেসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করেছে ওই চেয়ারম্যানের চাচাতো ভাইয়ের পক্ষ। গুরুতর অবস্থায় বাবুল ফকিরসহ তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রবিবার (১৪ নভেম্বর) রাতে উপজেলার শিবচর ইউনিয়ন পরিষদের কাজীর মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও হাসাপাতাল সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান বাবুল ফকির ও তাঁর চাচাতো ভাই রাসেল ফকিরের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত শনিবার (১৩ নভেম্বর) ন্যায্য মূল্যের চাল দেওয়ার সময় বাবুল ফকিরের সমর্থক ফিরোজ ফকিরের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় রাসেল ফকিরের সমর্থক কলম খার সঙ্গে। এর জের ধরে পরে উভয় সমর্থককে উভয় পক্ষ শাসন করেন। তবে এ নিয়ে আবারও উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গতকাল রবিবার একজনকে গ্রেপ্তারও করে।
এদিকে, রবিবার রাতে কাজীর মোড়ে ছেলে সুমন ফকিরসহ কয়েকজনকে নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির। এসময় সুমন বাইরে বের হলে প্রতিপক্ষ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সুমনের চিৎকারে চেয়ারম্যানসহ অন্যরা এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও একই কায়দায় হামলা চালানো হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যানের মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। আহত পাঁচজনকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়। তবে ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলে সুমনসহ তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদেরকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
আহত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল ফকির বলেন, ‘রাসেল, আকবরসহ অনেকে ধারালো অস্ত্রসহ আমার ছেলের ওপর প্রথমে হামলা চালায়। রক্ষা করতে গেলে ওরা আমার ওপরও হামলা চালায়। মারা গেছি ভেবে ওরা আমাকে ফেলে রেখে যায়। ওরা আমাদের একজনের দোকান লুট করেছে, আমার স্ত্রী ও বোনকেও মারধর করেছে। মোট পাঁচজনকে কুপিয়েছে। ওরা সন্ত্রাসী বাহিনী, অস্ত্রধারী। আমি এর দৃষ্টান্তমুলক বিচার চাই।’
মুঠোফোনে রাসেল ফকির বলেন, ‘চেয়ারম্যানের ওপর হামলার সময় আমি ছিলাম না। এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত ওরাই আগে করেছে। চেয়ারম্যানের ছেলে আগে আমার লোককে মারছে। পরে আমিও ওদের এক লোককে থাপ্পড় দিছি। এরপর ওরা থানায় অভিযোগ দেওয়ায় আমি সরে গিয়েছিলাম। আমার পক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা চালাতে যাওয়ায় সেই পক্ষ ঘটনাটি ঘটাতে পারে।’
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন বলেন, ‘আধিপত্য নিয়ে এটা তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ। সেই সূত্র ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
Leave a Reply