সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তীব্র শিক্ষক সংকট সত্ত্বেও চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে উপজেলার সরকারি দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এবার পুরো উপজেলায় প্রাপ্ত মোট ২৫টি জিপিএ-৫ এর মধ্যে ১২টিই এসেছে এই দুই সরকারি স্কুল থেকে। তবে উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার সন্তোষজনক হয়নি, বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষায় বড় ধরনের ফল বিপর্যয় ঘটেছে।
গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উপজেলা সদরের জগন্নাথপুর স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে থেকে চলতি বছর এসএসি পরীক্ষায় ৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। এরমধ্যে পাশ করেছে ৪০ জন। ফেল করেছে ২৩ জন। পাশের হার ৬৩.৪৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন বিজ্ঞান বিভাগে মাহমুদুল হাসান ইয়ামীম, বায়োজিদ ইসলাম, রোহিত দেব ও অমি পাল, মানবিক বিভাগে সৌরভ ভট্টাচার্য এবং শাকির আহমদ।
অপরদিকে জগন্নাথপুর সরকারী বালিকা স্কুল থেকে এবার এসএসসিতে অংশ নেয় ৯৭ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে কৃতকার্য হয় ৭০ জন, অকৃতকার্য ২৭ জন। পাশের হার ৭২.১৬। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬ জন শিক্ষার্থী। তারা হলেন, বিজ্ঞান বিভাগে অন্বেষা রানী পাল, জোনাকি নাথ, জান্নাতুন ফেরদৌস, শারমিন সুলতানা, র্তূণা রায় ও মানবিক বিভাগে মৌরি পুরকায়স্থ। এছাড়া আব্দুস সোবহান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩ জন, মীরপুর পাবলিক স্কুলে দুইজন, সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, এরালিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয় ১ জন, পাড়ারগাও উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ ১ জন ও গুলবাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ জন। এসব প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম জানা যায়নি।
এদিকে, উপজেলার আলজান্নাত ইসলামী এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদরাসায় একজন ও কারিগরিতে হাজী রঙ্গুম আলী আটপাড়া টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
জগন্নাথপুর স্বরূপ চন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ নূর বলেন, সামগ্রিকভাবে আশানুরূপ ফলাফল না হলেও বিদ্যমান পরিস্থিতিতে এই ফল কিছুটা সন্তোষজনক। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা মোটামুটি ভালো করেছে। আগামীতে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো ফলাফল করবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।
অনুরূপ মন্তব্য করে জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, শিক্ষক সংকটের এই কঠিন সময়ের মধ্যেও আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করেছে। আগামীতে আরও ভালো ফলাফলের লক্ষ্যে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে একসাথে কাজ করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।