1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

নির্মম নির্যাতিত হাওয়া আক্তারের কাহিনী এখন বিশ্ব মিডিয়ায়

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ জুলাই, ২০১৭
  • ৩৩০ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: হাওয়া আক্তার (২১)। বাংলাদেশী একজন যুবতী গৃহবধু। তিনি স্বামী রফিকুল ইসলামের (৩০) অনুমতি ছাড়াই ডিগ্রি পড়তে চান। এ অপরাধে দেশে ফিরে রফিকুল কৌশলে হাওয়া আক্তারের ডান হাতের ৫টি আঙ্গুলই কেটে ফেলেছেন। কাটা আঙ্গুলগুলো রফিকুলের আত্মীয়রা নিয়ে দূরে কোথাও ফেলে দিয়েছে যাতে চিকিৎসকরা তা আর জোড়া লাগাতে না পারেন। হাওয়া আক্তার এখন শুধু স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে আছেন। তিনি পড়াশোনা করতে চান। বাম হাত দিয়েই চালিয়ে নিতে চান লেখাপড়া। রাজধানী ঢাকার গৃহবধু হাওয়া আক্তারের এ নির্মমতার কাহিনী এখন বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাকে নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। এতে বলা হয়েছে, হাওয়া আক্তারের স্বামী সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত। পড়াশোনা করেছেন অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। তার সঙ্গে বিয়ে হয় হাওয়া আক্তারের। হাওয়া আক্তার পড়াশোনা জানায় তার গা জ্বালা ধরে যায়। সম্প্রতি ফিরে আসেন দেশে। এসেই যখন জানতে পারেন হাওয়া ডিগ্রি পড়াশোনা করতে যাচ্ছে তখনই তার ভিতর প্রতিহিংসা জ্বলে ওঠে। বিভিন্ন কৌশল খুঁজতে থাকে সে। এক পর্যায়ে হাওয়াকে সারপ্রাইজ দেয়ার কথা বলে তার চোখ বেঁধে ফেলে। মুখ আটকে দেয় কস্ট টেপ দিয়ে। এরপরই সারপ্রাইজের পরিবর্তে সে হাওয়ার হাত বের করতে বলে। হাওয়া হাত বের করার সঙ্গে সঙ্গে ডান হাতের ৫টি আঙ্গুলই কেটে ফেলে। এ সময় রফিকুলের এক নিকটজন বিচ্ছিন্ন আঙ্গুলগুলো একটি ডাস্টবিনে নিয়ে ফেলে দেয়, যাতে চিকিৎসকরা তা আর জোড়া না লাগাতে পারেন। তিনি বলেছেন, রফিকুল বাংলাদেশে ফেরার পর আমার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। অকস্মাৎ আমাকে সারপ্রাইজ উপহার দেয়ার কথা বলে আমার চোখ বাঁধে। দু’হাত বাঁধে। মুখে এঁটে দেয় কস্ট টেপ। এরপরই সে আমার আঙ্গুলগুলো কেটে দেয়। পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর রফিকুল ইসলাম তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে অঙ্গহানীর অভিযোগ আনা হবে। তবে মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো তার যাবজ্জীবন জেল দাবি করছে। মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরো বলেছেন, রফিকুল ইসলাম ছিলেন ক্ষুব্ধ। তিনি ঈর্ষান্বিতও ছিলন। কারণ, তিনি মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী উচ্চ শিক্ষা অর্জনের দিকে যাচ্ছেন। এটা তিনি মেনে নিতে পারছিলেন না। হাওয়া আক্তার বলেছেন, এখন তিনি বাম হাত দিয়ে লেখা শিক্ষা নিচ্ছেন। পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তিনি বদ্ধপরিকর। হাসপাতাল থেকে তিনি ফিরে গেছেন পিতামাতার সংসারে। ডেইলি মেইল লিখেছে, বাংলাদেশে শিক্ষিত নারীদের টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের এটি ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com