1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং

প্রচারণার শেষ দিনে ‘ভোটারদের যা বললেন’ মেয়র প্রার্থীরা

  • Update Time : রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮
  • ৪৪১ Time View

কামরুল ইসলাম মাহি : সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে প্রচারণা শেষ দিন ছিল শনিবার (২৮ জুলাই)। তাই কাক ডাকা ভোর থেকেই শুরু হয় প্রার্থীদের প্রচারণা। ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে শেষ বারের মত ভোট চেয়েছেন মেয়র প্রার্থীরা। দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। ১০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রচার প্রচারণা শেষ দিন ছিল শনিবার। ফলে নগরীর প্রতিটি অলি-গলিতে শেষবারের মত প্রার্থীদের দেখা গেছে। প্রার্থীরা শুক্রবার ক্লান্তিভরা নির্ঘুম রাত যাপনের পরও ছুটছেন এপার থেকে ওপারে। শেষ সুযোগ হাত ছাড়া করতে রাজি ছিলেন না কেউই।

এবার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বদর উদ্দীন আহমদ কামরান (নৌকা) ও বিএনপি মনোনিত প্রার্থী সদ্য সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর (ধান) মধ্যে মুল প্রতিযোগিতা হবে বলে ধারনা করছেন নগরের সচেতন ভোটাররা। তবু ঘরে বসে নেই অন্যান্য প্রার্থীরা।

জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের (টেবিল ঘড়ি), বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফর (মই), ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এহছানুল হক তাহের (হরিণ) প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন শেষ সময়ে।

এদিকে, বিএনপি মনোনিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনি প্রচারণার সময় বলেছেন, সিলেটের মানুষের প্রতি আমার অগাধ আস্থা রয়েছে। ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনকে বানচাল করা যাবে না। সিলেটের মানুষ অন্যায় সহ্য করে না। আপামর জনতা যদি ষড়যন্ত্রের বিষয় টের পেয়ে যায় তবে ষড়যন্ত্রকারীরা পালাবার পথ খুঁজে পাবেন না। তিনি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার আহবান জানান।

এসময় আরিফ আরও বলেন, আমাকে ৩৩ মাস জেলে বন্দি রাখা হয় সিলেটের মানুষকে উন্নয়ন বঞ্চিত করার জন্য। কিন্তু সকল অপচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে। সিলেটের জন্য আমি কি করেছি তা দৃশ্যমান। আমার ভাই কামরান তার নির্বাচনি ইশতেহারে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছেন সেগুলোর অধিকাংশই আমার মেয়াদকালীন সময় বাস্তবায়ন করেছি। আর যা তিনি করবেন সেগুলো আমার চলমান কাজের মধ্যে রয়েছে।

অপরদিকে, প্রচারণাকালে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী বদর উদ্দীন আহমদ কামরান বলেন, এটা জীবনের শেষ নির্বাচন। আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বেচেঁ নাও থাকতে পারি। আমি জীবনের শেষবারের মত প্রাণের সিলেট বাসীর জন্য উন্নয়নকাজ করতে চাই।
কামরান আরও বলেন, সিলেটের উন্নয়ন আরিফ করেননি। প্রাণের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ হয়েছে। সিলেটের উন্নয়নে আরিফ কাজ করতে পারেননি। তিনি সিটি কর্পোরেশনকে দলীয় অফিস বানিয়ে রেখেছিলেন। এসময় আরিফ একজন ব্যর্থ মেয়র আখ্যা দিয়ে শান্তি ও উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার আহব্বন জানান কামরান।

জামায়াত সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জাবায়ের বলেন, সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পরও মর্যাদাপুর্ণ এই মহানগরীর জনগণের মাঝে রয়েছে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির বিশাল ব্যবধান। এই ব্যবধানের পেছনে যেমন রয়েছে প্রশাসনিক জটিলতা ও বাস্তব কারণ, তেমনী রয়েছে সুষ্ঠু, দুরদর্শী পরিকল্পনা এবং কাঙ্ক্ষিত যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের অভাব। বিশ্বায়নের এই যুগে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমি পরিচ্ছন্ন মানবিক সিলেট গড়তে চাই। ৩০ জুলাই টেবিল ঘড়ি মার্কার বিজয় মানবিক সিলেট গড়ার পথকে প্রশস্ত করবে।

বাসদ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবু জাফর বলেন, আমরা অতীতে সিলেটর গ্যাস সংযোগ বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলন করেছি, আন্দোলন করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছি কিন্তু আন্দোলন থেকে সরে যাইনি, আন্দোলনের মাধ্যমে পুনঃবার গ্যাস সংযোগ এর দাবি আদায় করেছি। একইভাবে ভারত সরকার যখন টিপাই মুখে বাঁধ নির্মাণ করে বানানোর ষড়যন্ত্র করেছিল তখন আমরা এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন করে সিলেটকে মরুভ’মি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছি। জনগণ তাই আমাদের আন্দোলনের মূল্যায়ন করে মই মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করবে বলে আশা রাখি।

ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী প্রফেসর ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান বলেন, সিলেট ওসমানী মেডিকেল থেকে শুরু করে প্রায় চল্লিশ বৎসর যাবত সিলেটের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি, জীবনের শেষ মুহূর্তে দুর্নীতিগ্রস্থ সমাজেরও চিকিৎসক হতে চাই। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে, এই ব্যাধি দূর করতে একজন আল্লাহভীরু, যোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। সকলের সহযোগিতা নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত নগরী গড়ার চিকিৎসকের ভূমিকা পালন করতে চাই।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এহছানুল হক তাহের বলেন, আমি নির্বাচিত হলে নগরীকে সন্ত্রাসমুক্ত, সিটি কর্পোরেশন থেকে পার্সেন্টেজ প্রথা বিদায়, অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের জন্য শতভাগ ব্যয় করতে চাই। এজন্য তিনি আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে হরিণ মার্কায় ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আগামী ৩০ জুলাই। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মোট ৭ জন প্রার্থী। (এদের মধ্যে বদরুজ্জামান সেলিম বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হককে সমর্থন জানিয়ে প্রচারণা বন্ধ রেখেছেন )। আর সাধারণ ওয়ার্ডে ১২৭ জন ও সংরক্ষিত ৯টি ওয়ার্ডে ৬২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিটির ২৭ ওয়ার্ডে মোট ১৩৪টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com