1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া জগন্নাথপুরের রোহিত হতে চান ক্রিকেটার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ: জগন্নাথপুর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শামিম আহমদ বহিষ্কার বুধবার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয়কে ধরল গ্রামবাসী বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি

প্রবাসীর স্ত্রী খুন: হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েও অনজিৎ ও অসীত ছিলেন স্বাভাবিক

  • Update Time : রবিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩৯৪৪ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি::

কী করে একজন নারীকে কেটে ছয় টুকরা করে হত্যার পরও অতি স্বাভাবিকভাবে সংঘটিত ক্রাইম স্পটের পাশেই ব্যবসা পরিচালনা করছে খুনিরা! আতঙ্কের কোনো ছাপ ছিল না তাঁদের চেহারায়। এ তো সিনেমা বা নাটকের গল্পকে হার মানায়। এসব কথা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার ওষুধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী। পরদিন পৌর শহরের একটি তালাবদ্ধ ফার্মেসি থেকে ওই নারীর ছয় টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার প্রধান আসামি ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ গোপ (৩০) সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শনিবার সিআইডির পক্ষ থেকে জানানো হয় হত্যাকাণ্ডের কারণ। জড়িত তিনজনের মধ্যে জিতেশ ঘটনার পর পলাতক ছিল। তাঁকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় গ্রেপ্তার করে সিআইডি। অপর গ্রেপ্তারকৃত অনজিৎ গোপ ও অসীত- এ দুজন বীভৎস এই হত্যাকাণ্ডের পরও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছিল নিজ নিজ দোকানে।

 

আজ রোববার পৌর শহরের জগন্নাথপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধারের সময় ফার্মেসির পাশেই নিজ মুদি দোকানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন অনজিৎ গোপ। অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিলেন তিনি। তাঁর মতো স্বাভাবিক ছিল পাশের দোকানের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপও। শুক্রবার রাতে দুজনকে সিআইডি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডে এ দুজন জড়িত এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হতবাক হয়ে যান ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় ফার্মেসির পাশেই মুদি দোকানে অনজিৎকে দেখেছি একদম স্বাভাবিক। জিতেশ ঘটনার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর দোকান থেকে আলু কিনে নিয়ে গেছে বলে অনজিৎ জানায় আমাদের। এ খুনের ঘটনায় অনজিৎও জড়িত শুনে হতবাক আমি। কী করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থেকেও মানুষ অতি স্বাভাবিক থাকতে পারে!

গোবিন্দ নামের এক ব্যবসায়ী জানান, লাশ উদ্ধারের সময় অসীতও তাঁর ওষুধের দোকানে স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল। একটি বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এত স্বাভাবিক থাকতে পারা বিশ্বাসই হয় না। এমন ঘটনায় সিনেমাকেও হার মানায়।

 

জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহির উদ্দিন জানান, লোমর্হষক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করছি।

প্রসঙ্গত, ১৬ ফেব্রুয়ারি বুধবার বিকেলে অভি মেডিক্যাল হল নামের ফার্মেসিতে ওধুষ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন গৃহবধূ শাহনাজ পারভীন। গৃহবধূর ভাই হেলাল মিয়া তাঁর বোন বাসায় ফেরেননি জানতে পেরে ওই ফার্মেসিতে যান বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। তখন ফার্মেসি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপকে মোবাইলে কল দিলে তিনি জানান, তাঁর বোন ওষুধ না পেয়ে চলে গেছেন। বোনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করলে অন্য এক নারী ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি (নিহত নারী) সিলেট ওসমানীতে আছেন। সেখানে যোগাযোগ করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে শাহনাজের ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাতভর বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও শাহনাজের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন নির্বাহী হাকিম জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলামের উপস্থিতিতে জগন্নাথপুর থানার পুলিশ তালাবদ্ধ অভি ফার্মেসির তালা ভেঙে দোকানে অভিযান চালায়। এ সময় দোকানের রোগী দেখার টেবিলের নিচে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো ওই নারীর ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই হেলাল মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। এদিকে ঘটনার পর জিতেশ পালিয়ে যায়। গত শুক্রবার জিতেশ চন্দ্রকে ঢাকায় এবং জগন্নাথপুর পৌর এলাকা থেকে অনজিৎ ও অসীতকে সিআইডি গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত জিতেশ চন্দ্র কিশোরগঞ্জের ইটনার গ্রামের যাদব চন্দ্র গোপোর ছেলে, একই এলাকার মৃত রসময় চন্দ্র গোপের ছেলে অনজিৎ চন্দ্র গোপ (৩৮) ও নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের পতিত পাবন গোপের ছেলে অসীত গোপ (৩৬)। তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকায় বসবাস করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি জানিয়েছে, জগন্নাথপুর উপজেলার নারিকেলতলা গ্রামের সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না ২০১৩ সাল থেকে জগন্নাথপুর পৌর শহরে দুই ছেলে, এক মেয়ে, বৃদ্ধা মা ও ভাই-বোনদের নিয়ে নিজের বাসায় বসবাস করছিলেন। ওষুধপত্র কেনার সুবাদে শহরের অভি মেডিক্যাল হলের মালিক জিতেশের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। জ্যোৎস্না কিছুদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জ্যোৎস্নার মায়ের রক্তচাপ মাপতে জিতেশ তাঁদের বাসায় যান। তখন জ্যোৎস্না তাঁর শারীরিক সমস্যার কথা জানালে জিতেশ তাঁকে ফার্মেসিতে যেতে বলেন। পরদিন বিকেলে জ্যোৎস্না জিতেশের দোকানে গেলে কাস্টমার রয়েছে বলে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার কক্ষে অপেক্ষা করতে বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এদিকে রাত বেড়ে যায়। পরে জ্যোৎস্নাকে একটি ঘুমের ওষুধ খেতে দেন জিতেশ। এতে জোৎস্না তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তখন জিতেশ তাঁর দুই সহযোগী অনজিৎ চন্দ্র গোপ ও অসীত গোপকে নিয়ে ধর্ষণের পরিকল্পনা করেন। এরপর রাত গভীরে আশপাশের দোকান বন্ধ হয়ে গেলে তিনজন তাঁকে ধর্ষণ করেন। জোৎস্না ধর্ষণের কথা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিলে জিতেশ ও তাঁর দুই বন্ধু তাঁকে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর ফল কাটার ছুরি দিয়ে মরদেহ ছয় টুকরা করে দোকানে থাকা ওষুধের কার্টন দিয়ে ঢেকে রাখে। পরে খণ্ডিত মরদেহ পাশের একটি মাছের খামারে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। কিন্তু ভোর হয়ে যাওয়ায় এবং লোকজন চলে আসায় সেটি তাঁরা করতে পারেননি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com