1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলের প্রার্থী কর্নেল অলি জো বাইডেনের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চরম যন্ত্রণাদায়ক’ ক্যানসার দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২ জগন্নাথপুরে নৌকা ডুবিতে চার জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা বিএনপির শোক

বিশ্বনাথে লন্ডনী বরের সাথে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় কিশোরী রুমীকে

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
  • ২৬৫ Time View

জগন্নাথপুর২৪ ডেস্ক::

জগন্নাথপুরের পাশ্ববর্তী বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর সড়কের নিকটবর্তীস্থান থেকে উদ্ধারকৃত কিশোরীর লাশের পরিচয় অবশেষে পাওয়া গেছে। ওই কিশোরীর নাম রুমী আক্তার (১৬)। সে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নগরভাত গ্রামের আতাউর রহমানের কন্যা। কিশোরীর পরিচয়ের সাথে সাথে হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদ্ধার ও মূলহোতাকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

বিদেশি বরের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে সিলেটের বিশ্বনাথে এনে কিশোরী রুমীকে নিজ বসতঘরে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের খালে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করেছে শফিক মিয়া (৩২)। সে হত্যাকান্ডের সত্যতাও থানা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। শফিক উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহর পুত্র। শফিক বিশ্বনাথ এলাকার একটি গনধর্ষণ মামলা (বিশ্বনাথ জিআর ৩১/১৭ইং)’র পলাতক আসামী

নিহত কিশোরী রুমী আক্তারের মোবাইল ফোনের সূত্রে ধরে মঙ্গলবার দিবাগত ভোররাতে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা এলাকাস্থ ‘নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরি’ থেকে হত্যাকান্ডের মূলহোতা শফিক মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শফিক মিয়া ছাড়াও ‘কিশোরী রুমী হত্যাকান্ডের ঘটনায়’ ৮টি বিয়ে করা (বর্তমানে রয়েছে ৪ স্ত্রী) শফিকের স্ত্রী সোনালী আক্তার হীরা (২৩), বড় ভাই ফিরোজ আহমদের স্ত্রী দিপা বেগম (৩২), মতছির আলীর স্ত্রী লাভলী বেগম (২৫)’কে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোনালীকে গাজীপুর জেলার চৌরাস্তা ও দিপা এবং লাবলীকে বিশ্বনাথের রামচন্দ্রপুরস্থ নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া পুলিশ হত্যাকান্ডের আসল রহস্য উদঘাটনের জন্য এলাকার ১৪ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্বনাথ থানা পুলিশের উদ্যোগে থানা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে কিশোরী রুমী আক্তার হত্যাকান্ডের আসল রহস্য তুলে ধরেন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকা সাংবাদিকদের সামনেই নিজেদের করা অপরাধ দায়ও স্বীকার করেন গ্রেপ্তারকৃতরা। এরপর বুধবার বিকেল ৫টার দিকে নারী পিপাসু-লম্পট প্রকৃতির লোক শফিকের মিয়াকে সাথে নিয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে এলাকার শত শত মানুষ তার (শফিক) ফাঁসির দাবি জানান।

যেভাবে শফিকের ফাঁদে পড়ে রুমী :
পুলিশ ও খুন হওয়া কিশোরী রুমীর আত্মীয়-স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগে’ আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে রুমী আক্তার। রুমীর পাশের বেডেই চিকিৎসাধীন ছিলেন ঘাতক শফিকের এক শাশুড়ী। আর শাশুড়ীর চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে গিয়েই রুমী আক্তারের সাথে পরিচয় হয় লম্পট শফিকের। আর এই পরিচয় থেকেই বিদেশি (যুক্তরাজ্য) বরের সাথে বিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটার দিকে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে নিয়ে বের হয়ে রুমী বেগমকে সাথে নিয়ে ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে নিজ বাড়িতে উঠেন শফিক মিয়া। ছোট ভাবী লাভলী বেগম তাদেরকে ঘরে আশ্রয় দেন। এদিকে বোন হাসপাতাল থেকে হারিয়ে গেছে মর্মে ১০ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় কিশোরী রুমী আক্তারের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করে। ডায়েরী নং ৪০১ (তাং ১০.০৯.১৮ইং)।

বিশ্বনাথে আসর পর শফিকের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থেকে রুমী ছটফট করতে থাকে। এসময় শফিক রুমীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর পরিস্থিতির সাথে নিজেকে মানিয়ে নিলেও শফিকের চিন্তাভাবনায় ছিল অন্য বিষয়। তাই আরোও কয়েকবার সে (শফিক) রুমীকে ধর্ষণ করে। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাত-পা বেঁধে নিজেদের বসত ঘরের পিছনে থাকা খালে ডুবিয়ে হত্যা করে রুমীর লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় শফিক। প্রথমে ছাতকে থাকা নিজের বোনের বাড়িতে যায়, এরপর পুনরায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরেস্থ নিজ কর্মকস্থল নাসির গøাস ফ্যাক্টরিতে চলে যায়। পরে মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে শফিককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রুমীকে ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি দেখার পরও শফিকের দুই ভাবী দিপা ও লাভলী বিষয়টি গোপন রাখেন। তারা এ ঘটনায় অন্য কাউকে ফাঁসিয়ে শফিককে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৯টার দিকে পাঠাকইন-রামচন্দ্রপুর সড়কের পার্শ্বে পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর বাড়ীর সামনে রুমী আক্তারের লাশ পাওয়ার পর বিশ্বনাথ থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৮ (তাং ১২.০৯.১৮ইং)। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ২২ এপ্রিল একই জায়গায় (প্রায় ৫০ গজের দূরত্ব) আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। এঘটনায়ও বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়ে ছিলো। সে মামলা নং ১১ (তাং ২২.০৪.১৭ইং)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com