1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া  দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং প্রযুক্তির যুগে সময়ের অপচয় ও সচেতনতা দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে মৎস্য ফিশারি থেকে পাহাড়াদারের লাশ উদ্ধার

বৃদ্ধাশ্রমে থাকা একজন বাবার জন্য কষ্টের ও লজ্জার

  • Update Time : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬
  • ৩২০ Time View

জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম ডেস্ক :: সন্তান থাকার পরও বৃদ্ধাশ্রমে থাকা একজন বাবার জন্য যে কতটা লজ্জা ও কষ্টের তা অন্য কারো বাস্তব জীবনে না ঘটলে উপলব্দি করা সম্ভব নয়।

এই অনুভূতি জার্মান প্রবাসী একজন ডাক্তারের বাবার। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত প্রবীন হিতৈষী ও জরা বিজ্ঞান সংঘ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এই প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ ‘প্রবীন নিবাস’। যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রবীণরা অনেকটা অনিচ্ছাতেই এখানে বাস করেন।

প্রবীন নিবাসে রুচিশীল, মার্জিত ও শান্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এক বাবার সাথে আলাপে ফুটে উঠে ‘তার মনের আকুতি’।

‘আমি ততটাই করতে পেরেছি, যা আমার সাধ্যের মধ্যে ছিল। সন্তানের ভরণ-পোষণ থেকে শুরু করে সবকিছু করেছি, লেখাপড়া করিয়েছি। সে স্বপ্ন দেখতো, আমি বুনে দিতাম। নিজের বুকে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম। তারপরও শেষ বয়সে এসে সন্তানের বোঝা হয়ে গেলাম। এখন এটাই মনে করছি যে, সন্তানকে স্নেহ, আদর, ভালবাসার সবকিছু দিলেও মানবিক জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে পারি নি! আফসোস!’

সন্তানের প্রতি নিজের অভিমানের কথা এভাবেই বলছিলেন প্রবীণ নিবাসে বসবাসকারী সাবেক স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম (৬১) (ছদ্ম নাম)। স্ত্রী মারা গেছেন ১০ বছর আগে। একমাত্র ছেলে ডাক্তার। থাকে জার্মানিতে। সন্তানের অবহেলা আর নিজের একাকিত্বের কছে হার মেনে অবশেষে ঠাঁই নিয়েছেনে প্রবীণ নিবাসে।

তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক আপনজনকে চিরদিনের জন্য হারিয়েছি। খুব একটা কষ্ট হয়নি। কারণ তারা চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেছে। কিন্তু ছেলে থাকার পরও মনে হচ্ছে সে নাই। এখানে (বৃদ্ধাশ্রম) থাকাটা কষ্টের। চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর ভেবেছিলাম জীবনের শেষ সময়টুকু ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি নাতনিদের সঙ্গে কাটাবো। কিন্তু আমাকে তাদের সহ্যই হয় না। থাকব কিভাবে?’

শরিফুল ইসলাম এই প্রবীন নিবাসে একা নন। তার মতো আরো ৩০ জনের মতো বৃদ্ধ বাবা রয়েছেন এখানে।

প্রবীণ নিবাসে সুযোগ-সুবিধা খুব কম। জীবন চালিয়ে যাওয়ার মতো চাহিদাগুলোও এখানে কম পাওয়া যায়। তাই সবাই মুখিয়ে থাকে, যদি পরিবারের সদস্যদের কেউ দেখা করতে আসে। কিন্তু দিনের পর দিন যায়, এই বাবাদের প্রতীক্ষা শেষ হয় না।

বাবা হিসেবে সন্তানের উপর দায়িত্ব সর্ম্পকে কথা বলতে গিয়ে অনেকটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। আক্ষেপ করে বলেন, ‘সন্তানকে ছোট থেকে বড় করেছি। রক্ত পানি করে ডাক্তার বানিয়েছি। এজন্য প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা বাহবাও দিয়েছে। সেই লোকেরা আজ আমাকে ধিক্কার দেয়। বলে, কেমন ছেলে জন্ম দিয়েছি যে নিজের সুখের জন্য বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখতে কুণ্ঠাবোধ করে না।’

তিনি বলেন, ‘জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় শিক্ষার্থীদের মানুষ করার কাজে লাগিয়েছি। অনেক শিক্ষার্থী আছে, আমি বৃদ্ধাশ্রমে আছি শুনলে দেখতে আসে। পাশে বসে থাকে, সান্তনা দেয়। নিজের বাসায় নিয়ে যেতে চায়। কিন্তু আফসোস। এখানে আসার পর আট বছর হলো আমার সন্তানই একবারের জন্যও আসে নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারি নি! এটাই হতে পারে আমার জীবনের সেরা ব্যর্থতা। আর কোন শিক্ষক যেন এভাবে ব্যর্থ না হোন। জীবনের সবকিছু ত্যাগ করে বাবা মা যে সন্তানকে মানুষ করেন, সেই যদি তাদেরকে ভুলে যায়, সেটা মানবতার চরম অবক্ষয় ছাড়া আর কিছু নয়।’

অনেকটা অভিমানি এ বাবা। এখন আর সন্তানের কাছে ফিরে যেতে চান না। চান না সন্তানের সহানুভূতিও। ছেলে যদি নিতে আসে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জানি আসবে না। অপ্রত্যাশিতভাবে আসলে তাড়িয়ে দেব। কেন আমাকে নিয়ে যাবে। সে যে শ্রেণির মানুষ আমি তো সে শ্রেণির না! তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না। আমি যে সেকেলে!’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে হয়তো নিজের সন্তানের প্রতি সঠিক কর্তব্য পালন করছে না। যদি করতো, তাহলে আমি তার জন্য কতটা কষ্ট করেছি তা কিছুটা হলেও বুঝতে পারত।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com