1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: ডা. জাহেদ উর রহমান তীব্র শিক্ষক সংকটেও জগন্নাথপুরের সরকারি দুই স্কুলের বাজিমাত, ১২ শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ১০ জনই ফেল আত্মশুদ্ধির আলোচনা জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের ফলে বিপর্যয়: স্কুলের চেয়ে পিছিয়ে মাদরাসা জগন্নাথপুরে গেলবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেশি, স্কুলে ২৩, মাদরাসা ও কারিগরিতে ১টি জগন্নাথপুরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফেল ১৩৬১ শিক্ষার্থী জগন্নাথপুরে পরীক্ষা না দিয়েও ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী তালিকায় নাম! এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ যুক্তরাজ্যে রেফারি সার্ভিস অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত হলেন জগন্নাথপুরের ফটিক মিয়া 

লিবিয়া হয়ে ইটালী যাত্রা অনিশ্চিত গন্তব্যে ছুঁটছে জগন্নাথপুরের তরুণরা

  • Update Time : শুক্রবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৬
  • ৪০৪ Time View

অমিত দেব:: জগন্নাথপুর পৌর শহরের বাসুদেববাড়ির বাসিন্দা রূপক দে পটল একটি বেসরকারি মুঠোফোন কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করত। তিন মাস আগে চাকুরী চলে যাওয়ায় বেকার হয়ে ঘুরতে থাকে। পরে এক বন্ধুর কথামতো স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে স্বপ্নের দেশ ইটালীতে যাওয়ার আশায় দেড় লাখ টাকা চুক্তিতে অক্টোবর মাসে লিবিয়া পাড়ি জমায়। দালালরা তাকে লিবিয়া পৌঁছে দিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে ইটালী যেতে তার কাছে আরো চার লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ার তার ওপর চলে অমানবিক নির্যাতন। বিষয়টি নিরুপায় ছেলেটি মুঠোফোনে বাবা-মা কে জানালে ছেলেকে অনিশ্চিত যাত্রাথেকে রক্ষা করতে মাথাগুজার শেষ অবলম্বন বাড়ি বিক্রি করে দালালের কাছে পুরো তিন লাখ টাকা দেন। কিন্তু দালালের চাহিদামতো চার লাখ টাকা দিতে না পারায় এখনো পটলের ওপর চলছে নির্যাতন। কী হবে তার ভাগ্যে একথা এখনো জানা না গেলেও জগন্নাথপুর উপজেলার শত শত তরুণ লিবিয়ায় অনিশ্চিত যাত্রায় যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন দালাল সিলেটের কয়েকটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মাধ্যমে এভাবে শত শত বেকার তরুণদেরকে ইটালী যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়া নিয়ে অনিশ্চিত গন্তব্যে ফেলে দিচ্ছে। চার লাখ টাকার বিনিময়ে লিবিয়া হয়ে সাগরপাড়ি দিয়ে ইটালী যাওয়া কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামের এক তরুনের স্বজন জানান, ইটালীর শরনার্থী শিবিরে থাকা তার ভাই মুঠোফোনে জানায়,দালালরা লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে ইটালী সীমান্তে পৌঁছে দিতে তাদের একটি দলকে নিয়ে রওয়ানা হয়। তাদের ভায্যমতে ছয়ঘন্টা নৌকা চলার পর ইটালী সীমান্ত পাওয়া যাবে। কিন্তু দালালরা ১১ ঘন্টার তেল মজুদ করে নৌকাযোগে রওয়ানা হয়। সাড়ে ১০ ঘন্টা পরও যখন ইটালীর সীমান্তে পৌঁছতে পারেনি তখন সবাই মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। ঠিক সেই সময় একটি বিমান সাগরে নেমে তাদেরকে উদ্ধার করে ইটালী শরনার্থী শিবিরে নিয়ে যায়। এখনো তারা সেখানে অবস্থান করছেন এক মাস ধরে।
তিনি জানান, মজিদপুর গ্রামের আরেক তরুণসহ ১৫ জন তরুণ এখনো লিবিয়াতে আটক রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত বেকার যুবক লিবিয়া হয়ে ইটালী যেতে অনিশ্চিত গন্তব্যে রওয়ানা হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের কোন খুঁজ পাচ্ছেন না স্বজনরা। অনিশ্চিত গন্তব্যদিয়ে ইটালী পৌঁছা এক যুবক জানান, দালালরা লিবিয়া সীমান্ত পাড়করে ইটালী সীমান্তে প্রবেশ করে নৌকা ডুবিয়ে দেয়। পরে সাতাঁর কেটে ইটালী পৌঁছতে হয়।আবার অনেকেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনা। যারা পৌঁছেন সেখানে যাওয়ার পরও কোন কাজ পান না। সম্প্রতি লিবিয়ায় নৌকাডুবে শত শত মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যাওয়ার পর থেকে লিবিয়া সীমান্ত দিয়ে ইটালী যাওয়া তরুণদের স্বজনদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, লিবিয়া সীমান্ত দিয়ে ইটালী যাওয়ার হিড়িকের মতো এখনো জগন্নাথপুরে চলছে আরবের বিভিন্ন দেশে নারী পাচার। গৃহকর্মীর নামে প্রতি মাসে জগন্নাথপুর থেকে শত শত নারী আরবের বিভিন্ন দেশে গিয়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। আর ওই পাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত রয়েছেন জগন্নাথপুরের কয়েকজন দালাল। ওই সব দালালদেরকে নিয়ন্ত্রন করেন সিলেট ও ঢাকার মানবপাচারকারী চক্র। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ওই পাচারকারী চক্র তাদের বিশ্বস্ত এজেন্টদের মন ভোলানো কথায় সাড়া দিয়ে, সহায়সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে পথ বসেছে বহু মানুষ। তাদের জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। অবর্ণনীয় নির্যাতন সয়ে ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ দেশে ফিরতে পারলেও অনেকের ঘটছে নির্মম মৃত্যু। কিন্তুু অবৈধপথে যাওয়ার কারণে কোন হদিস মিলছেনা এসব পাচারকারী তরুনদের।
ভূক্তভোগীর স্বজনদের সাথে আলাপ করে আরো জানা গেছে, ইটালী, আমেরিকা, সিঙ্গাপুর,ফ্রান্স এর মতো উন্নত রাষ্ট্রে কম খরচে আকর্ষণীয় বেতন ও নানা সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে পাঠানোর জন্য আরবের বিভিন্ন দেশ লিবিয়া, সুদান, লেবানন, ইরাক, সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সীমান্ত দিয়ে পাচার করা হচ্ছে। ২০১২ সালে হয়েছে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন করে এসব আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রাখা হলেও কঠোর আইন, জীবনের ঝুঁকি, অনিশ্চয়তা কোনো কিছুই অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে পারছে না, বরং আরও বেড়েছে। তাছাড়া গৃহকর্মের কথা বলে নারী ও শিশুদের বিভিন্ন দেশে পাচার করে যৌনকাজে বাধ্য করানো হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলার নাদামপুর গ্রামের এক দিনমজুরের অবিবাহিতা মেয়ে সুদান গিয়ে এখন ৫ মাসের মেয়ে নিয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় দেশে ফিরেছেন।
কলকলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল হাশিম বলেন, কলকলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে লিবিয়া গিয়ে তরুনরা বিপদগামী হচ্ছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে কোন পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম কে বলেন, আমার ইউনিয়ন থেকে অনেক তরুন লিবিয়া হয়ে ইটালী যাচ্ছেন বলে শুনেছি।
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মুরসালিন জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর ডটকম কে জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com