1. forarup@gmail.com : jagannthpur25 :
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রথমবারের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম চালু দ্বিতীয় স্ত্রীকে রেখে প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে বিদেশ, ক্ষোভে ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দিল বাড়ি জগন্নাথপুরে লোডশেডিং, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ অর্ধেকেরও কম গ্রাম থেকে জাতীয় মাঠে: দিরাইয়ের দুই কিশোরের রূপকথা অন্যায়ের প্রতিবাদে কল্যাণকামিতা জরুরি জগন্নাথপুরে নৌকাডুবিতে নিহত ৪ পরিবারের পাশে জামায়াত জগন্নাথপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের মৃত্যু, গ্রামজুড়ে শোকের মাতম বিয়ের চার মাসের মাথায় প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন জগন্নাথপুরের ছাত্রলীগ নেতা বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দীর্ঘ হবে: মির্জা ফখরুল

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম রোধে অনলাইনে ফেয়ার ইন্সপেকশন কার্যক্রম চালু

  • Update Time : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৫
  • ৫৬৬ Time View

জগন্নাখপুর টুয়েন্টিফোর ডেস্ক::এক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক পরিদর্শন করবেন অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খুঁজে বের করবেন সেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক, প্রশাসনিক, একাডেমিক অনিয়ম ও দুর্নীতি। প্রতিবেদন তৈরি করবেন কোন শিক্ষক কেমন পড়াচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা কেন কোচিং-প্রাইভেটে ঝুঁকছে তাও থাকবে প্রতিবেদনে। একই সঙ্গে বিজ্ঞানাগার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম আদৌ চর্চা হয় কিনা তাও থাকবে সেখানে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটির কী ভূমিকা রাখছে এরকম শতাধিক বিষয় থাকবে সেখানে। নতুন পদ্ধতি পুরোটাই পরিচালিত হবে অনলাইনে। নাম দেয়া হয়েছে ফেয়ার ইন্সপেকশন। এমপিওভুক্ত প্রায় ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আওতাধীন সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী এ অডিটের আওতায় আসবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এটির নাম দিয়েছেন ডিজিটাল নজরধারী। অর্থাৎ এই পদ্ধতি চালুর ফলে কোন শিক্ষক-কর্মকর্তা এখন নজরধারীর বাইরে থাকবেন না। প্রতিনিয়ত মনিটরিং হবে কোন প্রতিষ্ঠানের পারফরমেন্স কেমন। কোন শিক্ষকের সার্টিফিকেট বা শিক্ষক নিবন্ধন জাল।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নতুন এই নিয়মের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এ সময় শিক্ষা সচিবসহ মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এই ফেয়ার ইন্সপেকশনের ওপর দেশের বাছাই করা শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৬ মাসের বেশি সময় ধরে চলে এটির ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা। চূড়ান্তভাবে গতকাল এটি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ কর্মসূচিতে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেদের নিজেরাই পরিদর্শন ও নিরীক্ষা করবে। নিজেদের ভাল-খারাপ, ত্রুটি-বিচ্যুতি নিজেরাই খুঁজে বের করবে। অন্য প্রতিষ্ঠানের ভালো বিষয় নিজের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে অনুসরণের সুযোগ থাকবে।
যেভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন প্রধানরা: পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) প্রণীত একাডেমিক পরিদর্শন ফরমের (ওয়েব সাইটে প্রদত্ত) মাধ্যমে ফেয়ার ইন্সপেকশনে দুই পদ্ধতিতে পরিদর্শন হবে। এ জন্য ১৪টি বিষয়ের ফরম তৈরি করতে হবে। এতে মোট শতাধিকের বেশি প্রশ্ন আছে। এসব প্রশ্ন পূরণ করতে সেসব তথ্য দিতে হবে তার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সব বিষয় থাকবে। এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে পরবর্তী সময়ে মন্ত্রণালয় করণীয় নির্ধারণ করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে অনিয়ম-দুর্নীতি বেরিয়ে আসবে অবলীলায়। পরবর্তীতে এসব দুর্নীতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিআইএ চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানে তদন্ত করবে। যে ১৪টি নজরধারীতে থাকবে সেগুলো হলো প্রাতিষ্ঠানিক, একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়ন, ক্লাস রুটিন পর্যালোচনা, শিক্ষকের পেশাদারিত্ব-শ্রেণী পাঠদান, প্রতিষ্ঠান প্রধানের একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব মূল্যায়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমাবেশ, শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীর আসন ব্যবস্থা, মিলনায়তন, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, ল্যাঙগুয়েজ ল্যাব, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও অভিভাবক-শিক্ষক সম্পর্ক। এই বিষয়গুলো যখন ফরমে লিখবে তখন একটি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয় উঠে আসবে। এছাড়াও প্রতিষ্ঠান প্রধানের একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নে ১৭টি বিষয় রয়েছে।
এ পরিদর্র্শনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধানদের প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদরাসা ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট প্রতি বছর ১-২০শে জানুয়ারির মধ্যে এবং সব ধরনের কলেজ, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসা ১-২০শে জুলাইয়ের মধ্যে একাডেমিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রণয়ন করবেন। ওই মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি প্রতিষ্ঠান প্রধানরা পরিদর্শনের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আপলোড করবেন (প্রতিদিনের নির্ধারিত ফরমেট অনুযায়ী)। এরপর সর্বশেষ মূল্যায়ন প্রতিবেদনসমূহ অধিক যাচাই-বাছাই শেষে ত্রুটি ও অনিয়ম চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ডিআইএ সরজমিন নিয়মিত পরিদর্শন ও নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদ্ধতির ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অডিট করা অনেক সহজ হয়ে যাবে। আমরা শুধু মূল্যায়ন করবো। এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবে। এতে এক প্রতিষ্ঠান অন্য প্রতিষ্ঠানের কোন বিষয় গোপন বা এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।
ডিআইএ উপ-পরিচালক রাশেদুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল এই পদ্ধতির আড়ালে মূলত আমরা দৈনিক ভিত্তিতে দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করব। এর মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক ও আর্থিক চিত্র বিশেষ করে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসবে। সারা দেশে ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। বর্তমান পদ্ধতিতে বছরে দেড় হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন সম্ভব হয় না। এ প্রক্রিয়ায় আমরা একটি প্রতিষ্ঠানে ৫ বছর পরও গিয়ে থাকি। এই ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত সময় নিরীক্ষা করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
জগন্নাথপুর টুয়েন্টিফোর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬
Design & Developed By ThemesBazar.Com